,

আদালতে চিৎকার করে খাদিজাকে যা বললেন বদরুল

Khadiza-Bodrul_1

আদালত প্রতিবেদক : রোববার বেলা ১১টা ৫০ মিনিট। তখন প্রিজন ভ্যানে করে সিলেট আদালতে নিয়ে আসা হয় ছাত্রলীগ নেতা বদরুল আলম। রবিবার ছিল তার বিরুদ্ধে দায়েরকৃত কলেজ ছাত্রী খাদিজা হত্যাচেষ্টা মামলায় ‘খাদিজা’র সাক্ষ্যগ্রহণের দিন। ফলে সকাল থেকেই আদালতপাড়ায় ভীড় করেন উৎসুক মানুষেরা। বিশেষত; আলোচিত ওই ঘটনার ভিলেন আর ভিকটিমকে একত্রে দেখতেই মানুষের উৎসাহ একটু বেশিই ছিল।

বদরুলকে আদালতে হাজির করার ঠিক আট মিনিট পর পরিবারের সদস্যদের সাথে আদালতে আসেন খাদিজা বেগম নার্গিস। বেলা ১২টার দিকে তিনি প্রবেশ করেন এজলাস কক্ষে। তখনই শুরু হয় আদালতের কার্যক্রম। বিচারকের সামনে বদরুলকে সনাক্ত করে সেদিনের ঘটনার বর্ণনা দিতে থাকেন খাদিজা। ঠিক তখনই ‘কিছু বলতে চাই’ বলে চিৎকার করে ওঠেন বদরুল।

উত্তেজিত বদরুল বিচারককে উদ্দেশ্য করে বলতে থাকেন, ‘আমি কিছু বলতে চাই। আমাকে একটা সুযোগ দিন। আমি সত্য কথা বলবো। আমি একজন শিক্ষক ছিলাম, আমি বঙ্গবন্ধুর সৈনিক।’ এসময় বদরুলকে সতর্ক করে দেন আদালতের বিচারক সাইফুজ্জামান হিরো। বিচারক বলেন, ‘আদালত বক্তৃতা দেওয়ার জায়গা নয়।’ বিচারকের কাছ থেকে অনুমতি না পেয়ে কাঠগড়ায় কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন বদরুল।

সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে বিচারক মামলার যুক্তিতর্কের তারিখ আগামী ১ মার্চ ধার্য করেন। ওই সময় ফের উত্তেজিত বদরুল চিৎকার করে বলতে থাকেন, ‘তুমি সুখী হও, খাদিজা। বিচারক আল্লাহ আছেন। আমার ফাঁসি হোক। তুমি আমার পরিবারকে পথে বসিয়েছ। মিথ্যাবাদী।’

এসময় বদরুলের আইনজীবি ও উপস্থিত পুলিশ সদস্যরা তাকে নিবৃত্ত করে এজলাস থেকে বের করে নিয়ে যান।

উল্লেখ্য; এর আগেও একবার আদালত প্রাঙ্গনে চিৎকার করে নিজের ফাঁসি দাবি করেছিল বদরুল।

আদালতের অতিরিক্ত সরকারি কৌঁসুলি মাহফুজুর রহমান জানিয়েছেন, আজ সিলেট মুখ্য মহানগর হাকিম সাইফুজ্জামান হিরোর আদলতে খাদিজার সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। খাদিজা হত্যাচেষ্টা মামলায় মোট ৩৭ সাক্ষির মধ্যে খাদিজাসহ ৩৪ জন সাক্ষির  সাক্ষ্য নেওয়ার মাধ্যমে সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ হলো।

     More News Of This Category

ফেসবুকে আমরা

Facebook Auto Publish Powered By : XYZScripts.com