,
শিরোনাম
সুনামগঞ্জে শ্রমিকলীগের ১২টি উপজেলা ও পৌর কমিটি বিলুপ্ত মৌলভীবাজারে অবাধে চলছে পাহাড় কাটা বিয়ানীবাজারে সৎ মেয়েকে শ্লীলতাহানির অভিযোগে পাষন্ড পিতা অাটক দেওয়ান ফরিদ গাজীর ৭ম মৃত্যুবার্ষিকী আজ প্রেমিকের সাথে পালাতে গিয়ে চালকের হাতে ধর্ষিত হল প্রেমিকা শাবির ভর্তি পরীক্ষায় জালিয়াতির চেষ্টা: আটক ২ প্রাথমিক ও ইবতেদায়ী সমাপনী পরীক্ষা শুরু আজ বিশেষ ডিস্কাউন্টে KinBD.Com এ পাওয়া যাবে শাওমির স্মার্ট ফোন বিপিএলে পয়েন্ট তালিকায় বড় পরিবর্তন রাবি থেকে অপহৃত ছাত্রী উদ্ধার, আটক ১ শাহ জমির উদ্দিন রহ’র মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষ্যে দোয়া মাহফিল কাল বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে, আরো এগিয়ে যাবে: প্রধানমন্ত্রী

নর্থ ইস্ট হাসপাতালে চিকিৎসায় অবহেলা: শিশুর জীবন নিয়ে ঝুঁকি

sylhet

নিজস্ব প্রতিবেদক : নবজাতক শিশুটির জন্মের মাত্র তিন দিন  মাথায় নির্মম ভুল চিকিৎসার শিকার সে। জন্মের পর পৃথিবীর আলো দেখেছে সিলেটের দক্ষিণ সুরমাস্থ নর্থ ইস্ট মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে। কিন্তু এই হাসপাতালের চিকিৎসকরাই শিশুটিকে জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে পাঠিয়ে দিয়েছেন।

শিশুটি মৌলভীবাজার জেলার কুলাউড়া উপজেলার কাদিপুর ইউনিয়নের চকাপন গ্রামের জুয়েল আহমদের ছেলে। বেসরকারি নর্থ ইস্ট হাসপাতালে চিকিৎসায় অবহেলা আর ভুলের কারণে শিশুটি এখন জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে রয়েছে।

শিশুর স্বজনরা জানান, গত ২৬ ফেব্রুয়ারি শিশুর মা নার্গিস বেগমকে নর্থ ইস্ট মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরদিন ২৭ ফেব্রুয়ারি সিজারিয়ান অপারেশনের মাধ্যমে শিশুটির জন্ম হয়।

২৮ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় হাসপাতালের পঞ্চমতলার ৫২১ নম্বর কেবিনে থাকা শিশুকে একজন সেবিকা ইঞ্জেকশন দেন। এরপরই শিশুটির পুরো শরীর কালো হয়ে যায়। পরে তার নাকে অক্সিজেন মাস্ক লাগিয়ে দেয়া হয়।

শিশুটির শ্বাসপ্রশ্বাস বন্ধ হয়ে যাচ্ছে দেখে চিকিৎসকরা তাকে নিয়ে যান হাসপাতালের অষ্টম তলার শিশু বিভাগে। সেখানে তার শরীরে ৩০ মিনিট ওয়ারমার দিয়ে গরম তাপ (হিট) দেয়া হয়। আর এতে তার ডান পা, পায়ের আঙুল ও গোপনাঙ্গসহ শরীরের অর্ধেকাংশ পুড়ে যায়।

তার অবস্থা আশঙ্কাজনক দেখে তিন দিন আগে সিজার হওয়া মা নার্গিস বেগম আরো বেশি অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। শিশুর জন্য তিনি আর্তনাদ করছেন। এ ঘটনা ভুল চিকিৎসার জন্যই ঘটেছে বলে অভিযোগ করেন নার্গিস বেগম।

তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছে কোনো ভুল চিকিৎসা হয়নি, তারপরও বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

শিশুর বাবা জুয়েল আহমদ জানান, তিনি একজন মাদরাসা শিক্ষক। সংবাদ প্রকাশ না করতে অনুরোধ জানিয়ে বলেন, সংবাদ প্রকাশ হলে আমার ছেলের ভালো চিকিৎসা নাও হতে পারে।

তিনি জানান, যখন তার ছেলেকে গরম তাপ (হিট) দেয়া হয় তখন তিনি সেবিকাকে বলেছিলেন, এটি অনেক গরম, খুলে ফেলুন। কিন্তু দায়িত্বরত সেবিকা তার কথা শোনেননি। সেবিকা তাকে জবাবে বলেন, ডাক্তার বলেছেন ৩০ মিনিটই গরম তাপ দেয়া হবে।

জুয়েল বলেন, ওই তাপেই আমার ছেলে পুড়ে গেছে।

কান্নায় ভেঙে পড়ে শিশুর মা নার্গিস বেগম বলেন, এখন আগের চেয়ে একটু ভালো মনে হচ্ছে ছেলেকে। ঘটনার পর থেকে চিকিৎসকরা তার ছেলেকে গুরুত্ব দিয়ে সেবা করছেন। তবে ছেলেকে নিয়ে তার দুশ্চিন্তা কাটছে না।

বেসরকারি এই হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও বিএনপি নেতা ডা. শাহরিয়ার হোসেন চৌধুরী জানান, হাসপাতালের সামর্থ্য ছিল বলেই শিশুটিকে বাঁচানো সম্ভব হয়েছে। শিশুটির ক্ষেত্রে যে চিকিৎসা প্রয়োজন ছিল, তাই দেয়া হয়েছে। শিশুটি এখন আগের চেয়ে সুস্থ রয়েছে।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এ ঘটনায় সার্জারি বিভাগের অধ্যাপক ডা. মীর মাহবুবুল আলমকে প্রধান করে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

তদন্ত প্রতিবেদন তিনি নিজে দেখেছেন জানিয়ে বলেন, শিশুকে বাঁচাতে যথাযথ চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।

সূত্র: জাগোনিউজ২৪

     More News Of This Category

ফেসবুকে আমরা

Facebook Auto Publish Powered By : XYZScripts.com