,

সুনামগঞ্জে পানির নিচে তলিয়ে যাচ্ছে বোরো ধান

badh

মোঃ আবুল কালাম জাকারিয়া : সিলেটের পশ্চিম ও নেত্রকোনার পূর্বে ভাটি অঞ্চল সুনামগঞ্জে কয়েক দিনের টানা বৃষ্টি ও উজানের ঢলে কৃষকের বুকফাটা অর্তনাদ ও মাথায় হাত। একমাত্র ফসল বোরো ধান এখনো কাঁচাপাকা।চোখের সামনে তলিয়ে যাচ্ছেপানির নিচে।এদৃশ্যটি যে কত হৃদয় বিদারক সেটি ভুক্তভোগী ছাড়া কেউ বুঝতে পারবেনা! বৃষ্টির পানিতেই তলিয়ে যাচ্ছে অধিকাংশ হাওর।বেড়িবাঁধগুরোর অবস্থাও নাঝেহাল।আবার কোনকোন ভেড়িবাঁধ ফেটে ভেঙ্গে পানিও ঢুকছে।কোনটি তলিয়ে গেছে।বৃষ্টির জন্য যেগুলো তলিয়েগেছে এজন্য তো কাউকে দোষা যায় না।কিন্তু কিছু অকর্মাদের অর্থ লোভে আর অলসতায় যে সমস্ত হাওর তলিয়ে যাচ্ছে তাদের ব্যাপারে কি করা যায় এখন জনমনে প্রশ্ন।এভাবেই বলছিলেন ভীমখালীর এক কৃষক।জামালগঞ্জের কৃষকেরা এখন স্বেচ্ছাশ্রমে বাঁধ রক্ষায় গ্রাম ছেড়ে হাোরে ফসর রক্ষাবাঁধে কাজ করছেন।জীবন-জীবিকার একমাত্র সম্বল বোরো ফসল রক্ষার তাগিদে উড়া- কোদাল, রশি ও বাশ নিয়ে সর্বক্ষণ কাজে নিয়োজিত রয়েছেন হাজারো কৃষক- শ্রমিকসহ সর্বস্থরের পেশাজীবিরা।এজন্য পানি উন্নন বোর্ডেকে দায়ী করে চরম ক্ষোভে কাজ করছেন কৃষকরা।সুরমা নদীর পানি ২৫ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে চলতি বোরো ধান ঘরে উঠবে কি না তা নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে।
টানা ভারী বর্ষণ অব্যাহত থাকায় হারাম হয়েছে কৃষকের ঘুম। জনপ্রতিনিধিদের বাঁধ নির্মাণ কাজের উপর নজর নেই। ভারী বর্ষনে ফসল ক্ষতির ব্যাপারে উপজেলা সাবেক চেয়ারম্যান ও হাওর বাঁচাও দেশ বাঁচাও আন্দোলনের সভাপতি ইউসুফ আল আজাদ বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ড প্রতিনিধিরা পিআইসিদের জোকসাজুসে কাজ বিলম্ব ও দুর্নীতি করে কৃষক নিধনের পায়তারা করছে। এ বছর আগাম বন্যায় বাঁধ ভেঙ্গে ফসল তলিয়ে গেলে কৃষকদের নিয়ে আন্দোলনে নামব। অতি সত্তর বাঁধ নির্মান কাজ সম্পন্ন না করলে কৃষকরা সংশ্লিষ্ট পিআইসি ও টিকাদারের বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলা করতে বাধ্য হবে। পিআইসি প্রতিনিধি ফেনারবাক ইউপি চেয়ারম্যান করুনা সিন্দু তালুকদার বলেন, কাজ প্রায় সম্পন্ন করেছি কিন্তু অর্থ পাই নাই, বেহেলী ইউপি চেয়ারম্যান অসীম তালুকদার বলেন, সময় মতো পর্যাপ্ত অর্থ না পাওয়ায় কাজ সম্পন্ন করতে বিলম্ব হচ্ছে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাফায়েত আহমদ সিদ্দিকী বলেন, ভারী বর্ষণ অব্যাহত থাকলে ক্ষতির পরিমান আরো বৃদ্ধি পেতে পারে। ফসল রক্ষা বাঁধগুলোও ঝুকিপূর্ণ রয়েছে। এ বছর আবহওয়া ফসলের প্রতিকুলে রয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা প্রসূন কুমার চক্রবর্তী বলেন, আমরা পিআইসিদের সর্তক করে দিয়েছি, আমরাও সু-দৃষ্টি রাখছি, অতি সত্তর বাঁধ ও ভেরী বাঁধ নির্মান করার জন্য। অসমাপ্ত কাজগুলোতে বস্তা পাঠিয়েছি,গতকাল শুক্রবার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (এডিসি শিক্ষা) মহোদয় হাওর রক্ষা বাঁধ পরিদর্শন করেছেন, আকাল বন্যায় যেন ফসল তলিয়ে না যায় সরকারের পক্ষে সর্বাত্মক সহযোগীতা করছি।ভীমখালী জাল্লাবাজ বাঁধের অবস্থাও তেমন ভালো নয়।সরেজমিনে দেখাযায় তার নাঁঝুক অবস্থা,তবে এলাকার জনগণসহ জনপ্রতিনিধিগণ সজাগ দৃষ্টিতে আছেন।

প্রতিদিনই কাজে আছেন তারা। শনিবার সকাল থেকেই এলাকাবাসীসহ ভীমখালীর নওয়াগাঁও বাজারের ইমাম-মোয়াজ্জিন ঐক্য পরিষদের কর্মীগণও ছিলেন।তাঁরা এলাকার মেম্বার,চেয়ারম্যানসহ সর্বসাধারনদের নিয়ে মাঠের পাশেই এক মোনাজাত করেন।আল্লাহর কাছে আজাব আর গজব থেকে পানাহ চান।পরে বাঁধকে আরো শক্ত করার জন্য কাজে লেগে পরেন তারা।উপস্থিত ছিলেন অত্র ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ দুলাল মিয়া,ওয়ার্ড মেম্বার আব্দুল ওয়াকিব,নূরুল আমিন,তহুর মিয়া,সৈয়দুল ইসলাম,জিল্লুর রহমান প্রমুখ।সকলেই বলেন এবাঁধ ভাঙ্গলে শুধু ভীমখালীই নয় বরং ফেনারবাঁক,ভীমখালী,লিপশা,দিরাইসহ অনেক হাওরের ক্ষতি হবে।তাই স্বেচ্ছাসেবী হয়ে কাজ করে বাঁধ রক্ষার চেষ্টা করা দরকার।

     More News Of This Category

ফেসবুকে আমরা

Facebook Auto Publish Powered By : XYZScripts.com