,

দিন দিন পর্যটকদের ভীড়ে মুখরিত হচ্ছে রাতারগুল সোয়াম ফরেস্ট

মোঃমতিউর রহমান : বাংলাদেশের একমাত্র জলাবন রাতারগুল সোয়াম ফরেস্ট যা ‘সিলেটের সুন্দরবন’ নামে খ্যত পরিচিত। গেল কয়েক দিনে রেকর্ড সংখ্যক পর্যটকদের উপস্থিতি লক্ষ করা গেছে, সোয়াম ফরেস্ট গোয়াইনঘাট উপজেলার ফতেহপুর  ইউনিয়নে অবস্থিত হলেও এর প্রধান যাতায়াত ও প্রবেশপথ সিলেট সদর উপজেলার খাদিমনগর ইউনিয়নের সাহেবের বাজার হয়ে মটরঘাট বাজার দিয়ে। সেখান থেকে খেয়াপথে নৌকা দিয়ে বনের ভিতরে যাওয়ার প্রধানতম পথ। বৃহৎ পর্যটন এলাকা হওয়ায় এরি মধ্যে পর্যটকদের আসা যাওয়ার সুবিধার্থে সিলেট সদর উপজেলা পরিষদের পক্ষ থেকে মটরঘাট বাজারে করা হয়েছে ব্যপক উন্নয়ন।

রাতারগুলের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের এক অপার বিস্ময়। জঙ্গলের একেবারে শুরুর দিকটায় মুর্তার বন, এর বেশির ভাগই জলে ডুবে থাকে বর্ষা কালে। যতই বনের ভিতর দিকে যাবেন ততই বাড়তে থাকে গাছের ঘনত্ব। অনেক জায়গাতেই এখনো দিনের সূর্যের আলো পৌঁছেনি।

বাংলাদেশের একমাত্র স্বীকৃত মিঠা পানির জলাবন  (সোয়াম্প ফরেস্ট) রাতারগুলে নৌকা নিয়ে বনের ভিতরে- জলের মধ্যে দাঁড়িয়ে থাকা সারি সারি হিজল-করচ গাছ পর্যটকদের মুগ্ধ করে তুলে প্রতিনিয়ত। জলারবনের ভেতরে গড়ে তোলা ওয়াচ টাওয়ার থেকে পর্যটকরা পুরো রাতারগুল সোয়াম ফরেস্ট এক পলকে দেখার সুযোগ পান এই ওয়াচ টাওয়ার নিয়ে অভিযোগেরও শেষ নেই বেড়াতে আসা পর্যটকদের। একসাথে ৫/৬ জনের অধিক দর্শনার্থী উপরে উঠলেই দিগ্বিদিক কাপতে থাকে এই ওয়াচ টাওয়ারটি। যে কোন সময় অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাও ঘটতে পারে বলে জানান স্থানীয়রা। প্রতিদিন দেশ বিদেশ থেকে আসা অসংখ্য পর্যটকদের ভিড়ে মুখরিত হয়ে উঠে এই পুরু এলাকা। তবে সরকারী বন্ধের দিনে এ পর্যটকদের ভীড় আর বেশি হয় বলে জানিয়েছেন খেয়াঘাটের ইজারাদাররা।

দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আগত পর্যটকরা জানিয়েছেন সিলেটের অন্যতম পর্যটন এলাকা রাতারগুল সোয়াম ফরেস্ট দেখে তারা মুগ্ধ। এখানে নৌকার মাঝি থেকে শুরু করে সবাই সহযোগীতা করেছেন। নৌকার মাঝিদের সাথে আলাপ করে জানা যায় প্রতিটি নৌকায় ৩ থেকে ৭ জন পর্যটক সহজেই বসা যায়, ভাড়া ছয় থেকে আট শত টাকার মধ্যে।

সব চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল মটরঘাট বাজারে রয়েছে পাশাপাশি দুই ধর্মের দুটি পবিত্র স্হান। শাহ কামাল (রহ) এর মাজার ও হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের ‘শিব মঠ মন্দির’  রাতারগুল সোয়াম ফরেস্টে ভ্রমণে আসা পর্যটকরা এ দুই ধর্মের দুটি পবিত্র স্হান এক পলক দেখে যান। যা দেশের ধর্মীয় সম্প্রীতির এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে বেড়াতে আসা পর্যটকমহলের কাছে।

  বাংলাদেশের একমাত্র জলাবন এরই মধ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রাতারগুল সোয়াম ফরেষ্টকে জীববৈচিত্র সংরক্ষণ  এলাকা ঘোষণা করেছেন। রাতারগুলে এখন পর্যন্ত সর্বমোট ৭৩ প্রজাতির উদ্ভিদের সন্ধান পাওয়া গেছে । এই বন মূলত প্রাকৃতিক বন হলেও পরবর্তিতে বাংলাদেশ বন বিভাগ, বেত, কদম, হিজল, মুর্তাসহ নানা জাতের জলসহিষ্ণু গাছ লাগিয়েছে। এছাড়া জলমগ্ন এই বনে রয়েছে হিজল, করচ আর বরুনগাছ; আছে পিঠালি, অর্জুন, ছাতিয়ান, গুটিজাম, বটগাছও। সিলেটের শীতলপাটি তৈরির মূল উপাদান মুর্তা বা মুক্তার বড় অংশ এই বন থেকেই আসে। এখানে আছে নানান প্রজাতির পাখি। মাছরাঙা, বিভিন্ন প্রজাতির বক, ঘুঘু, ফিঙে, বালিহাঁস, পানকৌড়ি ইত্যাদি। বন্যপ্রাণীর মধ্যে আছে— বানর, উদবিড়াল, কাঠবেড়ালি ইত্যাদি। বিভিন্ন প্রজাতির গুঁইসাপ ও নানান ধরনের সাপের অভায়শ্রম এই বনে।

     More News Of This Category