,

শুরু হচ্ছে ঢাকা-সিলেট চার লেন সড়কের নির্মাণ কাজ

sylhet sorok

বিশেষ প্রতিবেদক : ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক জিটুজি ভিত্তিতে চার লেনে নির্মাণে আগ্রহী চায়না হারবার ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি (সিএইচইসি)। তবে চার লেন নির্মাণে সড়ক ও জনপথ (সওজ) অধিদফতরের প্রাক্কলনের চেয়ে প্রায় ৪৩ শতাংশ বেশি দর চেয়েছিল কোম্পানিটি। তবে তিন দফা কমিয়ে অবশেষে সওজের প্রস্তাবিত দরেই চার লেন নির্মাণে সম্মত হয়েছে চায়না হারবার।

সম্প্রতি সড়ক পরিবহণ ও মহাসড়ক বিভাগের সচিবকে পাঠানো এক চিঠিতে এ মতামত জানায় কোম্পানিটি। এতে বলা হয়, নেগোসিয়েশন শেষে চায়না হারবার যে দর প্রস্তাব করেছিল তার সঙ্গে ৯ শতাংশ যুক্ত করলে সওজের ২০১৪-১৫ রেট শিডিউল অনুযায়ী দর পাওয়া যায়। এর সঙ্গে অতিরিক্ত ১১ শতাংশ ভ্যাট ও কর দিলে প্রস্তাবটি সম্পন্ন হতো। তবে বাড়তি এ অর্থ নিয়ে একমত হওয়া যায়নি।

যদিও গত বছর চীনের প্রেসিডেন্টের ঢাকা সফরে প্রকল্পটি বাস্তবায়নে দুই পক্ষ সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই করে। তবে দর নিয়ে বনিবনা না হওয়ায় প্রকল্পটির বাস্তবায়ন অনিশ্চিত হয়ে যেতে পারে। এতে দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কে প্রভাব পড়তে পারে। তাই চায়না হারবার সওজের প্রস্তাবিত দর মেনেই চার লেন নির্মাণে সম্মত হচ্ছে। তবে এক্ষেত্রে প্রস্তাবিত অন্যান্য শর্ত অপরিবর্তিত থাকবে বলে আশা করা যাচ্ছে।

জানতে চাইলে সওজের প্রধান প্রকৌশলী ও নেগোসিয়েশন কমিটির প্রধান ইবনে আলম হাসান বলেন, চায়না হারবার প্রায় দেড় গুণ বেশি দর প্রস্তাব করেছিল। তবে অন্যান্য চলমান ও প্রক্রিয়াধীন প্রকল্পের বাইরে বাড়তি দরে কাজ দিতে সম্মত ছিল না সওজ। পরে চায়না হারবার কিছুটা ছাড় দিয়েছে। আশা করা যায়, দ্রুতই প্রকল্পটির কাজ শুরু করা যাবে।
উল্লেখ্য, ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক চার লেনে নির্মাণে তিন দফায় ৫৮, ৪৩ ও ১৪ শতাংশ বেশি দরে প্রস্তাব করেছিল চায়না হারবার। এ নিয়ে শেয়ার বিজে একাধিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।

সূত্র জানায়, ঢাকা-সিলেট ২২৬ কিলোমিটার মহাসড়ক চার লেনে নির্মাণে ৫৮ শতাংশ বেশি দরপ্রস্তাব করেছিল চায়না হারবার। পরে তা কমিয়ে ৪৩ শতাংশ বাড়তি দর প্রস্তাব করা হয়। এতে দেখা যায়, ঢাকার কাঁচপুর থেকে সিলেট পর্যন্ত মহাসড়ক চার লেনে নির্মাণে সওজ ব্যয় প্রাক্কলন করছে ১০ হাজার ৯৫ কোটি ৫৩ লাখ টাকা। আর চায়না হারবার এ ব্যয় নির্ধারণ করেছে ১৪ হাজার ৪৭০ কোটি ৮৭ লাখ টাকা। অর্থাৎ, চার হাজার ৩৭৫ কোটি ৫১ লাখ টাকা বেশি ব্যয় প্রস্তাব করেছে চীনের কোম্পানিটি।

দ্বিতীয় প্রস্তাবেও সওজের প্রস্তাবিত দরের সঙ্গে বনিবনা না হওয়ায় তৃতীয় আরেকটি প্রস্তাব দিয়েছে চায়না হারবার। এতে দেখা যায়, চার লেন নির্মাণে ১৪ হাজার ৫২৪ হাজার কোটি টাকা চায় কোম্পানিটি। আর সওজ কিছুটা বাড়িয়ে এ দরপ্রস্তাব করেছে ১২ হাজার ৬৬৮ কোটি টাকা। তবে এখনও দুই প্রস্তাবের মধ্যে এক হাজার ৮৫৬ কোটি টাকা বা ১৪ দশমিক ৬৫ শতাংশ দর পার্থক্য রয়েছে।

নতুন প্রস্তাবে চার লেন নির্মাণে ভ্যাট ও শুল্ক নিয়ে টানাটানি করছে সওজ ও চায়না হারবার। এতে দেখা যায়, মূল ব্যয়ের সঙ্গে ১৩ শতাংশ ভ্যাট ও শুল্ক যোগ করে ১৪ হাজার ৫৬১ কোটি ৪০ লাখ টাকা প্রস্তাব করেছে সওজ। আর চায়না হারবার বলছে, মূল প্রস্তাবের বাইরে শুল্ক ও ভ্যাট বাবদ এক হাজার ৮৮৮ কোটি ১২ লাখ টাকা সরকারকে দিতে হবে। এতে চার লেন নির্মাণে ব্যয় পড়বে ১৬ হাজার ৪১২ কোটি ১২ লাখ টাকা।

যদিও ৪৩ শতাংশ বেশি ব্যয়েই কাজটি দেওয়ার জন্য গত মে মাসে সুপারিশ করেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। অর্থমন্ত্রীকে পাঠানো চায়না হারবারের এক চিঠিতে প্রকল্পটি দ্রুত অনুমোদনে সড়ক পরিবহণ ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরকে অনুরোধ করা হয়। এজন্য চায়না হারবারের পাঠানো ওই প্রস্তাবের ওপর অর্থমন্ত্রী লেখেন, ‘প্লিজ রিলিজ দিস ইস্যু অ্যাট ইউর আর্লিয়েস্ট কনভেনিয়েন্স।’

উল্লেখ্য, ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক চার লেনে নির্মাণে জমি অধিগ্রহণ, পুনর্বাসন ও অন্যান্য ব্যয় যুক্ত করা হয়নি। এগুলো যোগ করা হলে প্রকল্পটির মোট ব্যয় ১৯ হাজার কোটি টাকায় গিয়ে ঠেকতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এতে কিলোমিটারপ্রতি ব্যয় পড়বে ৮৪ কোটি টাকা। অথচ গত বছর প্রাথমিক হিসাবে এ ব্যয় ধরা হয় কিলোমিটারপ্রতি ৫৬ কোটি টাকা।

যদিও গত বছর অনুমোদিত এলেঙ্গা-রংপুর সড়ক চার লেনে নির্মাণে কিলোমিটারপ্রতি ব্যয় ধরা হয়েছে ৬০ কোটি ৮৩ লাখ টাকা। আর ২০১৪ সালে শুরু হওয়া জয়দেবপুর থেকে টাঙ্গাইল হয়ে এলেঙ্গা পর্যন্ত চার লেন নির্মাণে কিলোমিটারপ্রতি ব্যয় হচ্ছে ৪৮ কোটি ছয় লাখ টাকা। এ হিসেবে চীনের অর্থায়নে প্রকল্পটির ব্যয় অনেক বেশি পড়ে।

     More News Of This Category

ফেসবুকে আমরা

Archive Calendar

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
১০১১১২১৩১৪
১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
২৯৩০৩১  
Facebook Auto Publish Powered By : XYZScripts.com