,

বোরো আবাদ নিয়ে শঙ্কায় কৃষকরা

Jomi

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি : নির্ধারিত সময় শেষ হলেও হাওরে বাঁধ নির্মাণে প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি (পিআইসি) গঠন শেষ হয়নি। এদিকে সুনামগঞ্জের ১৫৪টি হাওরের বেশির ভাগই এখনো টইটম্বুর। ফলে আসন্ন বোরো ধান আবাদ নিয়ে দারুণ অনিশ্চয়তায় পড়েছেন হাওরের কৃষকরা। গত বছরের ক্ষতি পুষিয়ে উঠতে না পারলে এবার একেবারে নিঃস্ব হয়ে পড়ার আশঙ্কায় আছেন তারা।

জানা যায়, সুনামগঞ্জের ১১ উপজেলার ৩৬টি বৃহৎ হাওর ও ১৭টি উপপ্রকল্পসহ মোট ৫৩টি হাওরের বোরো ফসল রক্ষায় পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) এ মৌসুমে ৯১৪টি প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি (পিআইসি) গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পাউবোর সুনামগঞ্জের পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ বিভাগ-১-এর অধীনে উন্নয়ন প্রকল্পে ১৪০টি ও অনুন্নয়ন রাজস্ব খাতের ৩৭২টি, পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ বিভাগ-২-এর অধীনে উন্নয়ন খাতের ২৩১ ও অনুন্নয়ন খাতে ২২০টিসহ মোট ৯১৪টি পিআইসি গঠন করার কথা। এসব পিআইসি উন্নয়ন ও অনুন্নয়ন রাজস্ব খাতের ৬০ কোটি ৪০ লাখ টাকা ব্যয়ে সাড়ে ৬৭৯ কিলোমিটার বাঁধের কাজ তদারক করবে। স্থানীয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) নেতৃত্বে উপজেলা প্রশাসন এসব কমিটি গঠন করবে। গত ৩০ নভেম্বর ছিল কমিটি গঠনের শেষ দিন।

পাউবোর সুনামগঞ্জ পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ বিভাগ-১-এর নির্বাহী প্রকৌশলী আবু বকর সিদ্দিকি ভুইয়া ও বিভাগ-২-এর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সাহিনুজ্জামান দাবি করেন, উপজেলা পর্যায় থেকে কমিটির তালিকা এখনো তারা না পেলেও কমিটি অনেকটা প্রস্তুত করা হয়ে গেছে। দু-একদিনের মধ্যে অনুমোদনও হয়ে যাবে বলে আশা করছেন তারা।

চলতি বছর পাউবোর নতুন নীতিমালা অনুযায়ী, ইউএনওকে আহ্বায়ক ও পাউবোর একজন প্রতিনিধিকে সদস্য সচিব করে ১২ সদস্যের কমিটি গঠন করা হবে। কমিটিতে গণমাধ্যম, এনজিও, কৃষক ও মত্স্যজীবী প্রতিনিধি থাকবেন। আগে স্থানীয় সংসদ সদস্যের মনোনীত লোক পেতে দেরি হওয়ায় প্রতি বছরই পিআইসি গঠন ও বাঁধের কাজ শুরু হতে বিলম্ব হতো।

নীতিমালা পরিবর্তনের পরও কমিটি গঠনে বিলম্বের কারণ জানতে চাইলে একাধিক ইউএনওর কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বিপুলসংখ্যক কমিটির সদস্য নির্বাচন করতে সময় লাগছে। তাছাড়া কমিটিতে সদস্য অন্তর্ভুক্ত করতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্রভাবশালীদের কিছু চাপও রয়েছে। আর হাওর থেকে এখনো পানি না নামায় বাঁধ নির্মাণে এমনিতেই কিছুটা বিলম্ব হবে।

এদিকে কোনো কোনো হাওরের পানি নিষ্কাশন খাল, স্লুইস গেট, ভার্টিক্যাল গেট বা পাইপ স্লুইস গেট ভরাট হয়ে যাওয়ায় পানি নামছে না। এ ব্যাপারে পাউবো কর্মকর্তারা বলেন, হাওরের পাশ দিয়ে বহমান নদীর পানির উচ্চতা হাওরের সমান থাকায় কোথাও কোথাও পানি নিষ্কাশনে বিলম্ব হচ্ছে। তাছাড়া কিছু জলমহালের ইজারাদারদের বিরুদ্ধে বাঁধ না কেটে পানি বিলে আটকে রাখার অভিযোগও রয়েছে।

সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ, তাহিরপুর ও বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা মিলে হালির হাওড়ের অবস্থান। হাওড়ে জমি রয়েছে প্রায় ১০ হাজার হেক্টর। হাওরের নিচু এলাকা মাছুমপুর গ্রামের রাতলার খাল স্লুইস গেট। এ গেট দিয়ে পানি বৌলাই হয়ে সুরমা নদীতে যায়।

সরেজমিনে দেখা যায়, গেটের কয়েকটি পলবোর্ড না তোলায় পলি আটকে গেছে। পলবোর্ডগুলো মাটির নিচে পড়ে গেছে। রাতলার খালের মুখও ভরাট হয়ে গেছে। আরো অনেক হাওরেরই পানি নিষ্কাশন খাল বা স্লুইস গেটের অবস্থা এমনই বলে জানিয়েছেন হাওরপাড়ের কৃষকরা।

হালির হাওরের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপসহকারী প্রকৌশলী নিহার রঞ্জন দাস বলেন, অন্য বছর পানি নিষ্কাশনে এত সমস্যা হয়নি। স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে পরামর্শ করে আমরা এ সমস্যার সমাধানের চেষ্টা করব।

পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী আবু বকর সিদ্দিক ভুইয়া (পওর-১) জানান, ৫৬টি স্লুইস গেট এবং ১৮টি পাইপ স্লুইস গেটের ৯০ ভাগই সমস্যাগ্রস্ত। মেরামত করার জন্য ৩০ লাখ টাকা বরাদ্দ পাওয়া গেছে। সমস্যা সমাধানে দ্রুত পিআইসি গঠন করে দেয়া হবে।

সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক সাবিরুল ইসলাম বলেন, অনেক হাওর থেকে এখনো পানি নামেনি। এ অবস্থায় এসব এলাকায় বাঁধ নির্মাণকাজ শুরুও সম্ভব নয়। তবে আমাদের কমিটি গঠন প্রায় চূড়ান্ত। এর জন্য কোনো সমস্যা হবে না।

সুনামগঞ্জ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, চলতি বোরো মৌসুমে সুনামগঞ্জে বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ২৪ হাজার হেক্টর। গত বছর আবাদ হয়েছিল ২ লাখ ২৩ হাজার ৮৫ হেক্টর।

     More News Of This Category

ফেসবুকে আমরা

Archive Calendar

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
১০১১১২১৩১৪
১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
২৯৩০৩১  
Facebook Auto Publish Powered By : XYZScripts.com