,

এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে অগ্নিসংযোগ: আদালতে হাজিরা ১০ আসামীর

নিজস্ব প্রতিবেদক : সিলেটের ঐতিহ্যবাহী এমসি কলেজের ছাত্রাবাসে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় করা মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারিদের মধ্যে আদালতে ধার্য্য করা তারিখে হাজিরা দিয়েছেন মাত্র ১০ জন।

হাজিরা দেওয়া নেতাকর্মীরা হলেন, সিলেট সরকারি কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি ও বর্তমানে মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক দেবাংশু দাস মিঠু, জেলা ছাত্রলীগের সাবেক তথ্য ও গবেষনা বিষয়ক সম্পাদক এডভোকেট মো. আলমগির,জেলা ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কামরুল ইসলাম, জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম, সিলেট জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি পঙ্কজ পুরকায়স্থ, সাবেক সদস্য সৌরভ দাস, বাবলা, মো. আতিকুর রহমান, মৃদুলকান্তি সরকার এবং আবু সরকার।

রোববার সকাল ১১টার দিকে সিলেট চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সাইফুর রহমান হিরোর আদালতে হাজিরা দেন এরা। বিষয়টি নিশ্চিত করে আসামি পক্ষের আইনজীবী এডভোকেট ফখরুল ইসলাম জানান, হাজিরা দেওয়া সকলেরই হাইকোর্ট থেকে জামিন নেয়া আছে। আজ শুধু সিলেট আদালতে ধার্য্য করা তারিখের হাজিরা ছিল।

প্রসঙ্গত, ২০১২ সালের ৮ জুলাই রাতে ছাত্রলীগ ও ছাত্রশিবিরের মধ্যকার সংঘর্ষের সময় আগুনে পুড়েছিল মুরারি চাঁদ কলেজের ছাত্রাবাসের ৩টি ব্লকের ৪২টি কক্ষ। এ ঘটনায় পরদিনই ছাত্রাবাসের সুপার বশির আহমদ বাদী হয়ে শাহপরান থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।

আলোচিত এ মামলার রহস্য উদঘাটন করতে আদালতের নির্দেশে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয় সিলেটে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ সিআইডিকে। সিআইডি ২০১৩ সালের ৩১ অক্টোবর আদালতে প্রথমবার চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেয়। তবে আদালত এ প্রতিবেদন গ্রহণ না করে আবার তদন্তের নির্দেশ দেন।

এরপর আবার তদন্ত করে সিআইডি ২০১৫ সালের ৯ আগস্ট ফের আদালতে প্রতিবেদন জমা দেয়। ওই প্রতিবেদনও আদালত গ্রহণ না করে পুলিশের একজন অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের মাধ্যমে পিবিআইকে তদন্তের নির্দেশ দেন।

পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) ও বিশেষায়িত সংস্থা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) তদন্তে অপরাধী শনাক্ত না হওয়ায় আলোচিত এ মামলার ভবিষ্যৎ নিয়ে সংশয় দেখা দেয়।

পরে এ মামলার জট খুলতে গত ৩১ মে বিচার বিভাগীয় তদন্তের আদেশ দেন সিলেটের অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট উম্মে সরাবন তহুরা।

পুলিশ শুরুতে যে তদন্ত করে, তাতে ছাত্রলীগের নাম আসেনি। আর পুলিশ, সিআইডি ও পিবিআইয়ের তদন্তের পর বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।

তবে সাক্ষীদের বক্তব্য, ভিডিও ফুটেজ, স্থিরচিত্র, জেলা প্রশাসন গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন পর্যালোচনায় ছাত্রাবাসে আগুনের ঘটনা ছাত্রলীগ ও ছাত্র শিবিরের বিরোধের কারণেই সংঘটিত হয় বলে উল্লেখ করা হয়েছে প্রতিবেদনে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘প্রথমত ছাত্রলীগের কর্মী উজ্জ্বল আহমদকে ছাত্র শিবিরের কর্মীরা গুরুতর জখম করায় তাৎক্ষণিক উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। পরে ছাত্রাবাসে অগ্নিসংযোগ করা হয়। মৌখিক ও দালিলিক সাক্ষ্য বিচার বিশ্লেষণে এটা সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত।’’

ছাত্রাবাসে আগুন দিতে গ্যালনে করে পেট্রোল ব্যবহার করা হয় বলেও জানানো হয় তদন্ত প্রতিবেদনে। পরে ছাত্রাবাসের কক্ষ লুটপাটও হয়।

১৬ নভেম্বর (বৃহস্পতিবার) সিলেটের অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন আদালতের বিচারক উম্মে সরাবন তহুরা ২৯ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।

তদন্তে যে ২৯ জনের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায় তারা হলেন, সিলেট সরকারি কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি ও বর্তমানে মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক দেবাংশু দাস মিঠু, জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি পঙ্কজ পুরকায়স্থ, আবু সরকার (শ্রমিক লীগ নেতা), জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম, মৃদুল কান্তি সরকার, কামরুল ইসলাম, আলমগির হোসেন, বাবলা, আতিকুর রহমান, লায়েক আহমেদ, সিদ্দিক আহমেদ ইউসুফ, জহিরুল ইসলাম, আক্তারুল ইসলাম, জসিম উদ্দিন, আসাদুজ্জামান শাহীন, মোহাম্মদ বিন মামুন বুলবুল, আওলাদ, আশরাফ আহমেদ শিপন, নজরুল ইসলাম, অলিউল্লাহ ওরফে ওলিউর রহমান, খুরশেদ আলম, বাছিদ ওরফে আবদুল বাছিদ, আবদুস সালাম, ইমতিয়াজ রফিক চৌধুরী, আবদুল্লাহ ফারুক, কয়েছ ওরফে কয়েছুজ্জামান তালুকদার, আবু রেহান, রুবেল ও জ্যোতির্ময় দাস সৌরভ।

     More News Of This Category