,

ওসমানী মেডিকেল হাসপাতাল : শয্যা ৯০০, রোগী ২০০০

নিজস্ব প্রতিবেদক : সিলেট এম.এ.জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল বৃহত্তর সিলেট তথা দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের মানুষের চিকিৎসাসেবার ভরসাস্থল। দেশের অন্যতম এ হাসপাতালে প্রতিদিনই সেবা নিচ্ছেন অগণিত মানুষ। তবে ধারণক্ষমতার চেয়ে সেবা গ্রহণে আগতদের সংখ্যা অনেক বেশি হওয়ায় চিকিৎসক ও নার্সসহ সংশ্লিষ্টদেরকে অতিরিক্ত শ্রম দিতে হচ্ছে। ৯শ শয্যার এ হাসপাতালটি এখন চলছে অর্ধেকেরও কম জনবল দিয়ে।

জনবল সংকটসহ বিভিন্ন সমস্যা থাকা সত্তেও প্রতিবছর বাড়ছে হাসপাতালে আগত রোগীর সংখ্যা। সর্বশেষ এক বছরে এ হাসপাতালে সেবা গ্রহণ করেছেন প্রায় ১৮ লাখ রোগী। এক বছরের হাসপাতালে রাজস্ব আদায় করা হয়েছে প্রায় ৮ কোটি টাকা।

সিলেট এম.এ.জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল স্থাপিত হয় ১৯৩৬ সালে। ১৯৪৮ সালে হাসপাতালটি ২শ শয্যায় উন্নীত হয়। পরবর্তীতে ১৯৭৮ সালে ৫শ শয্যায় এবং ১৯৯৮ সালের ১৭ জুন এ হাসপাতাল ৯শ শয্যায় উন্নীত হয়। সময়ের সাথে সাথে ভবন নির্মাণ, নতুন পরীক্ষাগার চালুসহ হাসপাতালে সংযুক্ত হয় কোটি কোটি টাকার আধুনিক যন্ত্রপাতি। কিন্তু শয্যা সংখ্যা বাড়লেও সেই হারে বৃদ্ধি পায়নি জনবল। ফলে জনবল সংকট নিয়েই চলছে হাসপাতালটি।

হাসপাতাল থেকে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী- বর্তমানে হাসপাতালের মোট শয্যার মধ্যে রয়েছে নন পেয়িং ৬৩০টি, পেয়িং ২২৪ ও কেবিন ৪৬টি। ৯শ শয্যার এ হাসপাতালে চিকিৎসক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীর পদসংখ্যা রয়েছে ২ হাজার ২৬৫টি। এর মধ্যে কর্মরত রয়েছেন ১ হাজার ৪৪ জন। শূন্য রয়েছে ১ হাজার ২২১টি। প্রথম শ্রেণীর চিকিৎসক ও কর্মকর্তার মোট ৪৪৩টি পদের মধ্যে কর্মরত রয়েছেন ২১৭ জন। শূন্য রয়েছে ২২৫টি পদ। দ্বিতীয় শ্রেণীর কর্মকর্তার পদ রয়েছে ১৪টি -যার ১২টি বর্তমানে শূন্য রয়েছে। কর্মরত রয়েছে মাত্র ২ জন কর্মকর্তা। হাসপাতালে নার্সিং কর্মকর্তা মোট পদ রয়েছে ৮৬২টি। কর্মরত রয়েছেন ৪৩৩ জন এবং খালি রয়েছে ৪২৯টি। এছাড়া তৃতীয় শ্রেণীর কর্মচারীর ২৩০টি পদের মধ্যে শূন্য রয়েছে ১৫২টি। আর চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারির ৭১৭টি পদের মধ্যে মাত্র ৩১৪টি পূর্ণ আছে। খালি রয়েছে ৪০৩টি পদ।

এদিকে, হাসপাতালে আগত রোগীর সংখ্যা দিনদিন বেড়েই চলেছে। গত ১ বছরে প্রায় ১৮ লাখ রোগী এ হাসপাতালে সেবা গ্রহণ করেছেন। ২০১৭ সালের জানুয়ারি থেকে নভেম্বর পর্যন্ত সেবা নিয়েছেন ১৬ লাখ ৪৭ হাজার ৭৭৪ জন। এর মধ্যে আউটডোরে ৮ লাখ ৪৬ হাজার ১৮৪ জন, ইনডোরে ৬ লাখ ৪৪ হাজার ২৭৪ ও ইমার্জেন্সিতে ১ লাখ ৫৭ হাজার ৩১৬ জন রোগী সেবা নেন। ডিসেম্বর পর্যন্ত হিসেব কষলে সেব গ্রহীতার সংখ্যা ১৮ লাখ ছাড়িয়ে যাবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এ হাসপাতালে ২০১৬ সালে আউটডোরে সেবা গ্রহণ করেন ৮ লাখ ৮৬ হাজার ২০০ জন, ইনডোরে ৬ লাখ ৬৮ হাজার ৯২২ জন ও ইমার্জেন্সিতে ১ লাখ ৭০ হাজার ৫২৬জন রোগী সেবা নেন।

হাসপাতালে আয়ও বাড়ছে দিনদিন। ১০ বছর আগে ওসমানী হাসপাতালের বার্ষিক আয় যেখানে ছিল সাড়ে ৯৯ লাখ টাকা, সেখানে ২০১৬-১৭ অর্থবছরে রাজস্ব আদায় হয়েছে ৭ কোটি ২৮ লাখ ৫৭ হাজার ৫০ টাকা।

২০১৫-১৬ অর্থবছরে রাজস্ব আদায় হয় ৭ কোটি ২৬ লাখ ৪৯ হাজার ৩৫৬ টাকা। ২০১৪-১৫ অর্থবছরে রাজস্ব আদায়ের পরিমাণ ছিল ৭ কোটি ২৬ লাখ ৪৯ হাজার ৩৫৬ টাকা। এছাড়া ২০১৩-১৪ অর্থবছরের ৭ কোটি ৪০ লাখ ৯৫ হাজার ৭২২ টাকা এবং ২০১২-১৩ অর্থবছরের ৬ কোটি ২৪ লাখ ১৯ হাজার ৫২৪ টাকা রাজস্ব আদায় হয়। হাসপাতালে ইনডোর ও আউটডোরে রোগী দেখা, হাসপাতালের শয্যা ভাড়া, কেবিন ভাড়া, রোগীদের বিভিন্ন ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষা ইত্যাদি থেকে মূলত ওই আয় আসে।

হাসপাতালে রোগীর অতিরিক্ত চাপ সর্বদা লেগেই থাকে জানিয়ে উপপরিচালক ডা. দেবপদ রায় বলেন, রোগী বেশি হওয়ায় সেবা দিতে চিকিৎসক, নার্স ও স্টাফদের হিমশিম খেতে হচ্ছে। সীমিত শয্যা সংখ্যার কারণে অনেক রোগী বারান্দা ও হাসপাতালের মেঝেতে চিকিৎসা নিচ্ছেন। তবে এখন হাসপাতালের রোগীরা অতীতের চেয়ে অনেক বেশি সুযোগ-সুবিধা পাচ্ছেন। তবে হাসপাতালের খালি পদগুলোতে জনবল নিয়োগ করা হলে সব সমস্যা কেটে যাবে।

ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ড. এ.কে মাহবুবুল হক জানান, আয় বাড়লেও প্রয়োজনের চেয়ে জনবল অনেক কম। জনবল সংকট সমাধান হলে আরো ভালো সেবা দেওয়া সম্ভব হবে। তারপরও আমরা সর্বোচ্চ সেবা দেওয়ার চেষ্টা করছি।

তিনি বলেন, সরকার জনগণের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করছে। এরই অংশ হিসেবে ইতোমধ্যে আমাদের এ হাসপাতালের উন্নয়নেও নানা প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়েছে। সবার সহযোগিতায় এ হাসপাতালের সেবার মান আরো বাড়ানো সম্ভব হবে বলেও জানান ড. এ.কে মাহবুবুল হক।

     More News Of This Category