আমিরাতে আইপিএল, সিলেটে বসছে জমজমাট জুয়ায় আসর!

by sylhetmedia.com

নিউজ ডেস্ক: সংযুক্ত আরব আমিরাতে চলছে ক্রিকেট বিশ্বের বড় আসর ‘ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ’ (আইপিএল)। কিন্তু ঝমকালো এ আসরটি ভারতে হলেও একে কেন্দ্র করে সিলেট নগরীর বিভিন্ন এলাকায় প্রতিদনই বসছে জমজমাট জুয়ায় আসর। বাজির নামে এমন জুয়াতে নিঃস্ব হচ্ছেন অনেকেই। যাদের বেশিরভাগই তরুণ।

‘এই ওভারে ছক্কা হবে। কারা পক্ষে এবং কারা বিপক্ষে বাজি ধরবেন?’ এমন করেই হাঁক ছাড়ছেন একজন, আর উপস্থিত দর্শকরা পক্ষে-বিপক্ষে একটা নির্দিষ্ট অংকের বাজি (জুয়া) ধরছেন। আইপিএল ঘিরে সিলেট নগরীতে এমন করেই চলছে রমরমা বাজি বাণিজ্য।

নগরীর বিভিন্ন হোটেল, রেস্টুরেন্ট, বস্তি, পাড়ার মোড়ের দোকানে প্রতিদিন আইপিএল’র খেলার সময় চলে এমন জমজমাট বাজি ধরার খেলা। এসব স্থানে দর্শক যতোটা না খেলা দেখার টানে উপস্থিত হন, তারচেয়ে বেশি থাকে জুয়ার টান। আইপিএল-কে ঘিরে এই বাজিতে লাখ লাখ টাকার বাণিজ্য হচ্ছে সিলেটে।

এদিকে, আইপিএল’র গত আসরগুলোতে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ এ বিষয়ে কঠোর নজরদারি রাখলেও এবারে সেদিকে পুলিশের খেয়ান নেই বলে মন্তব্য সচেতন মহলের। গত এক মাস থেকে এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে গণধর্ষণকাণ্ড ও বন্দরবাজার ফাঁড়িতে রায়হান আহমদ নামের যুবকের মৃত্যুর ঘটনায় ব্যতিব্যস্ত মহানগর পুলিশ। এই সুযোগে আইপিএল-কে ঘিরে নগরীর বিভিন্ন স্থানে বাজিকররা বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সিলেট নগরীর শাহী ঈদগাহ, শেখঘাট, বালুচর, নেহারিপাড়া, তেররতন, বন্দরবাজার, ঘাসিটুলা, লালবাজার, পৌর বিপণি কেন্দ্র, সোনারপাড়া, শাপলাবাগ, টিলাগড়, মজুমদারি, লামাপাড়া এবং দক্ষিণ সুরমা এলাকার ঝালোপাড়া ও স্টেশন রোডসহ প্রভৃতি এলাকার বস্তি, চায়ের দোকান এবং চায়ের হোটেলে আইপিএলকে ঘিরে বাজি ধরার প্রবণতা বেশি দেখা যায়।

জানা গেছে, সিলেট নগরীর বিভিন্ন এলাকায় আইপিএলকে ঘিরে যে জুয়ার খেলা চলছে। তার মধ্যে ক্রিকেটপ্রেমী নিম্নবিত্ত ও তরুণ শ্রেণির মানুষই বেশি। বাজিতে অর্থ লাভের আশায় তারা সারাদিনের পারিশ্রমিক নিয়ে বাজি খেলায় বসেন। খেলা শেষে কারো মুখে দেখা যায় খুশির ঝিলিক, আর কেউ বাসায় ফিরেন মলিন মুখে। এই শ্রেণির বাইরে মধ্যবিত্ত শ্রেণির একটি অংশও আইপিএল-কে ঘিরে সিলেটে বাজির খেলায় মেতেছে।

খেলায় বাজি ধরার পদ্ধতিটাও বেশ চমকপ্রদ। ম্যাচ শুরুর আগেই পক্ষে-বিপক্ষে বাজি ধরা হয়- এই ম্যাচে কোন দল জিতবে এ নিয়ে। তাছাড়া প্রতি ওভারে কিংবা প্রতি বলেও বাজি ধরা হয়। ‘এই ওভারে কয়টা ছক্কা হবে’ কিংবা ‘এই ওভারে উইকেট পড়বে কি না?’ এসবের পক্ষে-বিপক্ষেও চলে বাজি বাণিজ্য।
এছাড়াও অমুক দল মোট কতো রান করবে, অমুক বোলার কতো উইকেট নেবে কিংবা অমুক ব্যাটসম্যান ফিফটি বা সেঞ্চুরি করতে পারবে কি না, এমন বাজিও ধরা হয়। এসব জুয়ায় সর্বনিম্ন ২০০ টাকা থেকে শুরু করে ৪০-৫০ হাজার টাকাও বাজি ধরা হয়।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে রোববার (২৫ অক্টোবর) দিনে এবং রাতের বিভিন্ন সময় এসএমপি’র মুখপাত্র অতিরিক্ত উপ-কমিশনার বি এম আশরাফ উল্যাহ’র অফিসিয়াল মোবাইল ফোন নাম্বারে কল দিলে সেটি বন্ধ পাওয়া যায়।

Related Posts



cheap mlb jerseyscheap nfl jerseyscheap mlb jerseyscheap nhl jerseyscheap jerseyscheap jerseyscheap jerseyscheap jerseyscheap jerseyscheap jerseys