জুড়ীর ইউরেনিয়াম খনি: কর্তৃপক্ষের নেই কোন পদক্ষেপ

by sylhetmedia.com

আব্দুর রহমান:  মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলার ষাঁড়েরগজ পাহাড়ের মহামূল্যবান ইউরেনিয়াম খনি দেশে খুলে দিতে পারে সম্ভাবনার নতুন দ্বার। অথচ গত চার দশকেও এখানে ইউরেনিয়াম অনুসন্ধান ও উত্তোলনের সমন্বিত কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।

খনিজ সম্পদ ইউরেনিয়ামের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্যসহ সর্বশেষ গত তিন বছর আগে বিস্তারিত চূড়ান্ত প্রতিবেদন জেলা প্রশাসনের কার্যালয় থেকে খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ে জমা হয়। কিন্তু এরপর থেকে কর্তৃপক্ষের আর কোন পদক্ষেপ নেই। জেলা সদর থেকে প্রায় ৬১ কিলোমিটার দূরে জুড়ি উপজেলার ফুলতলা ইউনিয়নে হারাগাছা (ষাড়েরগজ) পাহাড়ে এই খনিজ সম্পদের অবস্থান।

বাংলাদেশ আণবিক শক্তি কমিশন সূত্র জানায়, ১৯৭৫ সালে মৌলভীবাজার জেলার তৎকালীন কুলাউড়া উপজেলা সদর থেকে প্রায় ২৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত ফুলতলা ইউনিয়নের হারাগাছা পাহাড়ে সন্ধান পাওয়া যায় ইউরেনিয়ামের। পরবর্তীকালে তৎকালীন সিনিয়র ভূতত্ত্ববিদ ড. ইউনূস এর নেতৃত্বে কমিশনের একটি দল হারাগাছা পাহাড়ে অনুসন্ধান কাজ চালিয়ে ব্যাপক পরীক্ষা-নিরীক্ষাও করেন। কমিশনের অনুসন্ধানে ইউরেনিয়াম প্রাপ্তির সম্ভাবনাও নিশ্চিত হয়।

১৯৮০ সালে পুনরায় দেশের একমাত্র ইউরেনিয়াম প্রকল্প এলাকা হারাগাছা পাহাড়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা শুরু করা হয়। সেইসাথে অন্যান্য খনিজ সম্পদের ব্যাপারেও ব্যাপক অনুসন্ধান চালানো হয়েছিল। পরবর্তীতে ক্ষমতার পালাবদলের সাথে সাথে প্রকল্পটির কার্যক্রমগুলো মুখ থুবড়ে পড়ে।

১৯৯১ সালে আবারও অনুসন্ধান কাজ শুরু হয়। সে সময়ে বাংলাদেশ আণবিক শক্তি কমিশনের সিনিয়র ভূত্ত্ববিদ ড. ইউনূস জাপানের আণবিক জ্বালানি বিষয়ক গবেষণাগারে হারাগাছা এলাকা থেকে সংগৃহিত নমুনা পরীক্ষার পর এখানে ইউরেনিয়ামের অস্তিত্ব পুনরায় নিশ্চিত করেন। সেই সাথে এ পাহাড়ে আরও খনিজ সম্পদ তেল, গ্যাস ও কয়লা পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেন তিনি।

অনুসন্ধানে আরও জানা গেছে, হারাগাছা ছাড়াও বৃহত্তর সিলেট ও চট্টগ্রামের আরও প্রায় তিন শতাধিক স্থানে প্রতি ১০ লাখ মাটিকণার মধ্যে ৫০০-১৩০০ পর্যন্ত ইউরেনিয়াম কণা পাওয়া গেছে। অর্থাৎ এসব স্থানে ইউরেনিয়াম প্রাপ্তির হার ৫০০-১৩০০ পার্টস পার মিলিয়ন (পিপিএম)।

আণবিক শক্তি কমিশন সূত্রে আরও জানা গেছে, পারমাণবিক বোমা তৈরি এবং পারমাণবিক চুল্লি¬তে শক্তি উৎপাদক হিসেবে এই তেজস্ক্রিয় পদার্থ ব্যবহৃত হয়। ২০০৯ সালের শেষ সময়ে আন্তর্জাতিক পারমাণবিক শক্তি সংস্থা কর্তৃক পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের অনুমোদন পেয়েছে বাংলাদেশ। ফলে দেশে পারমাণবিক বিদ্যুত উৎপাদনের মূল উপাদান ইউরেনিয়াম অনুসন্ধান ও উত্তোলন প্রয়োজন।

ভূ-তাত্ত্বিক জরিপ অধিদপ্তর এবং পারমাণবিক শক্তি কমিশন থেকে প্রাপ্ত তথ্যে, ১৯৮৫ সালে তৎকালীন মৌলভীবাজারের তৎকালীন কুলাউড়া উপজেলার ফুলতলা ও সাগরনাল এবং সিলেটের জৈন্তাপুর এলাকায় অনুসন্ধান চালিয়ে ইউরেনিয়ামের সন্ধান পাওয়া যায়।

ইউরেনিয়াম অনুসন্ধানের জন্য গত ২৭ বছরে ওইসব এলাকায় ৩০টি অনুসন্ধান কূপ খনন করা হয়েছে। ভূ-তাত্ত্বিক জরিপ অধিদপ্তরের সহাতায় এ কাজ করে পারমাণবিক শক্তি কমিশন। পরবর্তীতে পারমাণবিক শক্তি কমিশন খনন কাজ বন্ধ করে দেয়। পরে আর নতুন কোনো অনুসন্ধান চালানো হয়নি।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, দেশে যখন নতুন করে পরমাণু বিদ্যুত কেন্দ্র নির্মাণ নিয়ে চিন্তা-ভাবনা চলছে তাই সরকার জেলার হারাগাছায় ইউরেনিয়াম অনুসন্ধান ও উত্তোলনের জন্য একটি বিশেষ প্রকল্প হাতে নিয়ে কাজ শুরু করবে। শুধু মৌলভীবাজারের হারাগাছা পাহাড়ই নয় সাগরনাল এবং সিলেট জেলার জৈন্তাপুরে ব্যাপক অনুসন্ধান চালিয়ে ইউরেনিয়াম আহরণ করলে দেশ অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধশালী হবে। এছাড়া বড়লেখা উপজেলার সীমান্তবর্তী বোবারথল, সুনামগঞ্জ জেলার দোয়ারাবাজার উপজেলার টেংরাটিলা, সিলেট জেলার গোলাপগঞ্জ উপজেলার কৈলাশটিলায়ও ইউরেনিয়াম প্রাপ্তির উজ্জ্বল সম্ভাবনা রয়েছে।

মৌলভীবাজারের জেলা প্রশাসক তোফায়েল ইসলাম জানান, জুড়ির ইউরেনিয়াম, মাধবকুণ্ডের পেছনে সীমান্তবর্তী বিওসি টিলা ও ফুলছড়া চা বাগানে তৈলসহ জেলার বিভিন্ন উপজেলায় প্রাকৃতিক সম্পদে ভরপুর রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে মন্ত্রণালয়ে ফের আলোচনা করা হবে।

উল্লেখ্য যে, ২০১৩ সালে জেলার বড়লেখার হাকালুকি হাওরে পিট কয়লার সন্ধান পাওয়া গেছে। এ অঞ্চলে প্রাপ্ত খনিজ সম্পদ যথাযথভাবে কাজে লাগানো সম্ভব হলে ২০২১ সাল নাগাদ বাংলাদেশ রাজস্ব আয়ের পরিমান দ্বিগুন বেড়ে যাবে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন্। খনিজ সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবহার সম্ভব হলে মাথাপিছু এ দেশের জাতীয় আয় দাঁড়াবে ৮২৫ ডলার থেকে সাড়ে ৩ হাজার ডলারে।

Related Posts



cheap mlb jerseyscheap nfl jerseyscheap mlb jerseyscheap nhl jerseyscheap jerseyscheap jerseyscheap jerseyscheap jerseyscheap jerseyscheap jerseys