Home লিড নিউজ নদীর জলে ফুল বর্ষণ আর শোভাযাত্রায় রবীন্দ্র স্মরনোৎসব শুরু

নদীর জলে ফুল বর্ষণ আর শোভাযাত্রায় রবীন্দ্র স্মরনোৎসব শুরু

নিউজ ডেস্ক: কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সিলেট আগমনের শতবর্ষ উপলক্ষে শ্রীহট্ট ব্রাহ্ম সমাজের পক্ষ থেকে আয়োজিত ‘শব্দে-ছন্দে রবীন্দ্র স্মরণ’ শুরুর মুহূর্তে জড়ো হতে থাকেন রবীন্দ্রপ্রেমীরা।

সময়ে সময়ে শত শত মানুষের ঢল নামে সিলেটের ক্বিন ব্রিজস্থ চাঁদনিঘাটে। নদীর জলে ফুল বর্ষণ করে জানানো হয় শ্রদ্ধা। একাগ্র শ্রদ্ধা ও ভালবাসা নিয়ে অদূরে থাকা কবিকেই যেন ফুলেল বরণ! এর পর সংগীত শোভাযাত্রার মধ্যদিয়ে ব্রাহ্ম মন্দিরে ফেরা।

১৯১৯ সালের ৫ নভেম্বর সকালে সিলেটে এসেছিলেন বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। সিলেটের রেলওয়ে স্টেশন থেকে প্রথমে চাঁদনিঘাট হয়ে প্রবেশ করেন সিলেট শহরে। তাঁর আগমন উপলক্ষে সেদিন রেলওয়ে স্টেশনে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান হয় তাঁকে। এর পর চাঁদনিঘাটে তাঁকে লাল গালিচা সংবর্ধনা দিয়ে বরণ করে সিলেটের মানুষ। তাঁর সাথে এসেছিলেন পুত্র রথিন্দ্রনাথ ঠাকুর ও তাঁর পুত্রবধূ। সেদিন মূলত সিলেটের ব্রাহ্ম সমাজের আমন্ত্রণে সিলেটে এসে ব্রাহ্ম মন্দিরের একটি প্রার্থনাতেও যোগদান করেন তিনি। সিলেটের সুন্দর্যে মুগ্ধ হয়ে সিলেটকে নাম দিয়েছিলেন শ্রীভূমি। সময় পেরিয়ে কবিগুরুর আগমনের আজ শতবর্ষ পূর্ণ হলো।

কবিগুরুর সিলেট আগমনের শতবর্ষ উপলক্ষে তাঁকে স্মরণীয় করে রাখতে সিলেটে রয়েছে নানা আয়োজন। এসব আয়োজনের মধ্যে ইতোমধ্যে সকাল ৭ টায় তাঁর আগমনীস্থল চাঁদনিঘাটের সুরমা নদীতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেছে ‘শ্রীহট্ট ব্রাহ্ম সমাজ’। এর পর একটি সংগীত শোভাযাত্রা নিয়ে এসে বন্ধরবাজারস্থ ব্রাহ্ম মন্দিরে আসেন কবিপ্রেমীরা। বর্তমানে ব্রাহ্ম মন্দিরে চলছে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। শ্রীহট্ট ব্রাহ্ম সমাজের আয়োজনে এসব অনুষ্ঠানে অংশ নেন শিশু, কিশোরসহ সকল বয়সের, শ্রেণি পেশার মানুষ। দিনব্যাপী এ অনুষ্ঠানের অংশ হিসেবে সন্ধ্যায় সিলেটের কবি নজরুল অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে কবিগুরুকে নিয়ে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

অপরদিকে কবিগুরু স্মরণে সিলেটে আয়োজন করা হয়েছে ৪ দিনব্যাপী ‘সিলেটে রবীন্দ্রনাথ শতবর্ষ স্মরণ উৎসব’। তাদের এ আয়োজনের মধ্যে সকাল ১১ টায় সিটি কর্পোরেশনের সামন থেকে ইতোমধ্যে একটি শোভাযাত্রা করা হয়েছে। যার মূল পর্ব শুরু হবে বিকাল ৩ টা ৩০ মিনিটে ক্বিন ব্রিজস্থ চাঁদনী ঘাটে রবীন্দ্রনাথের প্রতীকী উন্মোচনের মধ্যদিয়ে। প্রতীকী উন্মোচনের মধ্যদিয়ে প্রথমে হবে আগমনী অনুষ্ঠান। এর পর স্মরণ উৎসব চলবে ৮ নভেম্বর রাত পর্যন্ত।

ক্বিন ব্রিজ, মাছিমপুর, সিলেট সরকারি মহিলা কলেজ, মুরারিচাঁদ কলেজ, সিংহ বাড়ি, সিলেট জেলা স্টেডিয়াম ইত্যাদি জায়গায় আলাদা আলাদাভাবে নানা অনুষ্ঠানের মধ্যদিয়ে হবে এ রবীন্দ্র স্মরণ উৎসব।