পুলিশের অভিযানে ২৭৯টি এন্ড্রয়েড মোবাইলসেটসহ ৪জন আটক

by sylhetmedia.com

নিউজ ডেস্ক: দ্রুত ছুটছিল প্রাইভেট কারটি। সিলেট নগরের সুবিদবাজার এলাকায় পৌঁছে কারটি ঘিরে ধরে একদল লোক। কার থেকে দুজন পালিয়ে যায়। এরপর মোটরসাইকেল দিয়ে হেলমেট পরা একজনসহ দুজন কারটি গতিরোধ করে। তখন প্রাইভেট কারটি নিয়ে একধরনের কাড়াকাড়ি শুরু হয়। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে রফা হয়। সেখান থেকে কারটি নিয়ে যায় দুজন। এ ঘটনার প্রায় আড়াই ঘণ্টা পর প্রাইভেট কারটি পরিত্যক্ত অবস্থায় মেলে সিলেট-সুনামগঞ্জ সড়কের বাইপাস এলাকায়।

কী ছিল প্রাইভেট কারে, কেন কাড়াকাড়ি হয়েছিল, কারটি নিয়ে এভাবে কারা ফেলে রেখেছিল ক্লোলেস ঘটনাটি নিয়ে মাঠে নামে কোতয়ালী থানা পুলিশ।ডিসি উত্তর আজবাহার আলী শেখের নেতৃত্বে অভিযান নামে পুলিশ টানা ৪৮ ঘন্টা অভিযান চালিয়ে ঘটনার সাথে জড়িত চার দুষ্কৃতকারীকে আটক করে পুলিশ।

তাদের কাছ থেকে বিভিন্ন কোম্পানীর ২৭৯টি এন্ড্রয়েড মোবাইলসেট, একটি প্রাইভেট কার ও মোটর সাইকেল। এ চক্রের বিরুদ্ধে দুটি পৃথক মামলাও দায়ের করা হয়েছে।

সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (মিডিয়া এন্ড কমিউনিটি সার্ভিস) জেদান আল মুসা এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানান, জালালাবাদ থানা পুলিশ গত ১৬ নভেম্বর তেমুখী বাইপাস সড়কে পরিত্যক্ত অবস্থায় নম্বরবিহীন একটি সোনালী রং এর এক্সিও নতুন প্রাইভেট কার উদ্ধার করে। পুলিশের অনুসন্ধানে জানা যায়, কোতোয়ালী মডেল থানাধীন সাগরদিঘীরপাড়ের ফিজা ফ্যাক্টরীর সামনে দূস্কৃতকারীরা গাড়িটি ফেলে যায়।

স্থানীয় লোকজন বিষয়টি জানার আগেই ৩-৪ জন মোটর সাইকেল চালক বাজার কমিটিকে গাড়ীটি দুর্ঘটনায় পড়েছে বলে জানায়। তেমুখী বাইপাস সড়কে এ গাড়ীর পিছনের ঢালায় থাকা অবৈধ মালামাল অপর একটি পুরাতন প্রাইভেট কারে স্থানান্তর করে নতুন এক্সিও গাড়ীটি ফেলে রেখে পুরাতন প্রাইভেট কার যোগে মালামাল নিয়ে সিলেট নগরীর দিকে চলে যায়।

অনুসন্ধানে পুলিশ আরো জানতে পারে, এক্সিও প্রাইভেট কারের পিছনের ঢালায় ভারত থেকে অবৈধ ভাবে বিভিন্ন কোম্পানীর এন্ড্রয়েড মোবাইল সেট চোরাই পথে আনার সময় এয়ারপোর্ট রোডের বাইপাস থেকে একটি মোটর সাইকেল এবং একটি পুরাতন প্রাইভেট কার এই মালামাল বহনকারী এক্সিও কারটিকে পুলিশ অনুসরণ করছে ভেবে চোরাকারবারীরা এক্সিও গাড়ীটি সাগরদিঘীরপাড় ফিজা ফ্যাক্টরীর সামনে রেখে পালিয়ে যায়।

এ ঘটনায় উপ-পুলিশ কমিশনার (উত্তর) শেখ আজবাহার আলী (পিপিএম) এর নেতৃত্বে সহকারী পুলিশ কমিশনার নির্মলেন্দু চক্রবর্তীসহ কোতোয়ালী মডেল থানা পুলিশ গত ১৭ নভেম্বর থেকে গতকাল মঙ্গলবার পর্যন্ত এসএমপি’র বিভিন্ন স্থানে তল্লাশী চালায়। এ সময় ৪ জনকে আটক করা হয়।

আটককৃতরা হচ্ছে পশ্চিম শাহী ঈদগাহ অন্তরঙ্গ-৬৮ এর মোশারফ হোসেন খান (৩৮), দক্ষিণ সুরমার কায়স্তরাইলের জাহাঙ্গীর হোসেন (৩৪), কাজীটুলা মক্তবগলি ৪৪ নং হাফিজ মঞ্জিলের ফারুক মিয়া (৩৬) এবং জহিরুল ইসলাম সোহাগ (৩৯)।

তাদের কাছ থেকে উদ্ধার হয় ভারতে ব্যবহৃত বিভিন্ন কোম্পানীর ২৭৯টি এন্ড্রয়েড মোবাইল সেট। যার আনুমানিক মূল্য ৪১ লাখ ৮৫ হাজার টাকা। ২টি প্রাইভেট কার ও ১টি মোটর সাইকেল। যার আনুমানিক মূল্য ৩০ লাখ টাকা। এসব মালামাল উদ্ধার পূর্বক জব্দ করা হয়। আটককৃতদের বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইনে এবং দ্রুত বিচার আইনে পৃথক ২টি মামলা দায়ের হয়েছে।

Related Posts