ফাঁকা হয়ে যাচ্ছে সিলেট

by sylhetmedia.com

নিজস্ব প্রতিবদেক: করোনাভাইরাসের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণের জন্য আত্মাতিক রাজধানী সিলেটে সকল প্রকার বিপনী বিতাণ ও মার্কেট বন্ধ রাখার নির্দেশের এর পর ফাঁকা হয়ে যাচ্ছে।

দিনেতো ভিড় থাকেই সেই সাথে বিকাল কিংবা সন্ধ্যার অবসরে আড্ডায় মেতে ওঠা সিলেট নগরী ফাঁকা হয়ে আছে। রাস্তার পাশে টং দোকানে দাঁড়িয়ে চা খেতে খেতে আড্ডায় মেতে ওঠা মানুষ খুব একটা নেই। করোনাভাইরাসের আতঙ্কে সময়ে সময়ে নীরব হয়ে ওঠছে সিলেট নগরী।

সোমবার (২৩ মার্চ) অনেকটা ফাঁকা হয়ে আছে। চৌহাট্টা পয়েন্টেও ছিলো না চিরচেনা ট্র্যাফিক সিগনাল কিংবা চৌহাট্টা-আম্বরখানাগামী গাড়ির দীর্ঘ যানজট। এমনকি উন্নয়নকাজে ‘ছোট হয়ে আসা’ কোন সড়কেও ছিলো না যানজট। সব মিলিয়ে এ যেন এক অপরিচিত সিলেট নগরী।

চীনের উহান থেকে বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়া করোনাভাইরাস বাংলাদেশে হানা দেয়ার সাথে সাথে সারা দেশে জনসমাগম রোধে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বেশ কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। সময়ে সময়ে দেশে করোনা আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়ার সাথে সাথে করোনা মোকাবেলায় কঠোর হয় প্রশাসন। এমনকি জনসমাগম রোধে বিয়ে, ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠানসহ সামাজিক ঐতিহ্য রক্ষাকারী সকল অনুষ্ঠান বন্ধের ঘোষণা দেয় সরকার। বন্ধ করে দেয়া হয় দেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। তারপরও ছিল জনগণের খামখেয়ালিপনা। কিন্তু সম্প্রতি দেশে করোনা আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা লাফিয়ে বাড়ার সাথে সাথে সিলেটের জনসাধারণের মনে এর প্রভাব পড়ে।

সর্বশেষ রোববার (২২ মার্চ) ভোররাতে সিলেটে শহীদ শামসুদ্দিন (সদর) হাসপাতালে করোনা সন্দেহে ভর্তি লন্ডন ফেরত এক নারীর মৃত্যুর পর আতঙ্ক ছড়ায় নগরীতে। এ খবর রোববার গণমাধ্যমে প্রকাশের পরপর টনক নড়ে নগরবাসীর। আর যার প্রভাব পড়ে নগরে।

রোববার বিকালে নগরীতে ঘুরে দেখা যায় একদম শুনশান নীরবতা। অন্যান্য দিনের মতো চা, ফুচকা, স্ট্রীট কিংবা বাহারি খাবারের টং দোকান বসেনি আজ। কেবল তাই না, নীরব শাহী ঈদগাহ, ক্বীন ব্রিজ, কাজিরবাজার ব্রিজ এসব জায়গায়ও নেই টং দোকান। সবাই যেন নিজ উদ্যোগে এসব বন্ধ করে করোনা মোকাবেলায় ঘরে বসেই প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তাইতো লোকে লোকারণ্য থাকা এসব জায়গা যেন এখন অনেকটা সুনসান নীরব। দেখে অবাক হবারই কথা। ফাঁকা জিন্দাবাজার, বন্দরবাজার, লামাবাজার, মদিনা মার্কেটসহ নগরীর সকল এলাকা। রেস্টুরেন্টগুলোতেও নেই ক্রেতাদের চীরচেনা ভিড়। তাই বলাই যায় ‘সুস্থ থাকতে, দেশের মানুষকে সুস্থ রাখতে সকলেই সচেতন এবং প্রস্তুত।’

সিলেট নগরীর রিকাবিবাজারে আলীর চা খাওয়ার জন্য প্রতিদিন শত মানুষের সমাগম থাকলেও আজ আলী যেন একা দাঁড়িয়ে। তবে চায়ের দোকান নিয়ে নয় বরং নীরব রিকাবীবাজারের দৃশ্য দেখতেই এসেছেন। তবে তার মাঝেও আছে আতঙ্ক। কথা হয় আলীর সাথে। তিনি বলেন, ‘করোনায় একজন মইরা গেছে। হেরলাই দোকান বন্ধ কইরা দিছি। আগে নিজে বাঁচলে অনেক টাকা কামান যাইবো। মানুষ মইরা যাইতাছে আর আমি এখানে দোকান খুইলা বইসা থাকমু?’

কেবল তাই না, করোনার প্রভাব পড়েছে গণপরিবহনেও। দুপুরে সিলেটের কদমতলি বাস টার্মিনালে গিয়ে দেখা যায় অধিকাংশ গাড়ি ফাঁকা সিট নিয়ে টার্মিনাল ত্যাগ করছে। এসময় সিলেট-জকিগঞ্জ রডের চালক শামিম মিয়ার সাথে কথা বলে জানা যায় গত কয়েকদিন থেকেই যাত্রী কমতে শুরু করেছে। বিশেষ করে আজ যাত্রীর সংখ্যা একদম কম।

দূরপাল্লার বাসেও যাত্রী নেই। এনা পরিবহনের এসি গাড়ির চালক শাহনুর মিয়া জানান, গড়ে সর্বোচ্চ ১৪ থেকে ১৫ জন যাত্রী হয়। কিন্তু নিয়মিত অন্তত ৩০ থেকে ৩৫ জন যাত্রী হতেন সর্বনিম্ন।

একই সাথে বাসার সবাইকে বাধ্যতামূলক হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। দুপুরে প্রশাসনের পক্ষ থেকে একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট গিয়ে বাসার সবাইকে এ নির্দেশনা দেন।

Related Posts