মৌলভীবাজারে একটি সেতুর অভাব : দুর্ভোগে তিন উপজেলার মানুষ

by sylhetmedia.com

মৌলভীবাজার: মৌলভীবাজারে একটি সেতুর অভাবে দুর্ভোগে তিন উপজেলার মানুষ। মৌলভীবাজার-সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়কের কাজিরবাজার সংলগ্ন মনুনদীতে একটি সেতুর অভাবে মৌলভীবাজার সদর, রাজনগর ও সিলেটের বালাগঞ্জ উপজেলার লক্ষাধিক মানুষ দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন।

বিশেষ করে ওই তিন উপজেলার ৩৪টি গ্রামের স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসাপড়ুয়া শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি চরম আকার ধারণ করেছে। সেতু নির্মাণের জন্য এলাকাবাসী স্বাধীনতার পর থেকে এ পর্যন্ত একাধিকবার আবেদন করলেও তাদের দুঃখ লাঘব হয়নি।

মনুনদীর ওই জায়গা দিয়ে পারাপারের জন্য এলাকাবাসী বাৎসরিক পাঁচ লাখ টাকা দিয়ে এখানকার বাসিন্দা বকুলের সঙ্গে চুক্তি করেছেন। এলাকার সবাই চাঁদা তুলে ওই টাকা পরিশোধ করেন। বর্ষা মৌসুমে দুটি নৌকা এবং শুকনো মৌসুমে পাশাপাশি দুটি সাঁকো দিয়ে পারাপার হন ওই তিন উপজেলার ৩৪ গ্রামের লক্ষাধিক নারী-পুরুষ। বর্ষা মৌসুমে সকাল থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত নদীতে নৌকা পাওয়া যায়। রাত ১০টার পর ওই নদীতে মাঝি থাকেন না। মাঝি না থাকায় চরম দুর্ভোগে পড়তে হয় বাজার করতে আসা, শহর থেকে ফিরে আসা ও অন্যান্য জায়গা থেকে বাড়ি ফেরা মানুষের। বাড়ি আসতে হলে কামালপুর ইউনিয়নের নয়াব্রিজ হয়ে প্রায় ৫-৬ কিলোমিটার ঘুরে আসতে হয় অথবা ওপারে কারও বাড়িতে রাত্রিযাপন করতে হয়।

নদীর পূর্ব পাড়ে অবস্থিত মৌলভীবাজার সদর, রাজনগর ও সিলেটের বালাগঞ্জ উপজেলার ২১ গ্রামে প্রায় অর্ধলক্ষ লোকের বসবাস। নদীর দক্ষিণ পাশে অর্থাৎ মৌলভীবাজার-সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়কের পাশে স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা, হাটবাজার, হাসপাতাল, মসজিদ, মন্দিরসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা থাকায় মনুনদী পার হয়ে কাজিরবাজার দিয়ে ওইসব প্রতিষ্ঠানে যেতে চরম দুর্ভোগের স্বীকার হন তারা।

সরেজমিন গেলে আপ্তাব উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী রুমানা আক্তার, জাকির হোসেন, সবুজ মিয়া, শিরিন বেগম, রিমা বেগম, আল-আমিন ও মাঈশাসহ শতাধিক শিক্ষার্থীর সঙ্গে দেখা হলে তারা বলে, ‘ওই নদীতে সাঁকো পারাপারের সময় আমরা অনেক ভয় পাই। মাঝে মধ্যে নদীতে আমাদের বই, খাতা, কলম এমনকি জুতাও পড়ে যায়। বর্ষা মৌসুমে নৌকায় পারাপার হতে গিয়ে নদীতে নৌকা ডুবে যায়। ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হতে হয়। যার কারণে সময়মতো ক্লাসে ও পরীক্ষায় অংশ নেয়া সম্ভব হয় না।’

এলাকার প্রবীণ মুরব্বি হাফিজুর রহমান, বদরুল এইচ জোসেফ, আকলিমা বেগম ও পালপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক এবাদুল হক বুলু বলেন, ওই নদী পারাপার হতে গিয়ে নৌকা ডুবে অনেক লোক মারা গেছেন এবং অনেকে আহত ও পঙ্গুত্ববরণ করেছেন। বিশেষ করে ওই অঞ্চলের অসুস্থ ও গর্ভবতী নারীরা চরম কষ্টের শিকার হন।

তারা আরও বলেন, স্বাধীনতার পর থেকে বিভিন্ন সময় সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে বিষয়টি একাধিকবার উপস্থাপন করা হলেও আজ পর্যন্ত কোনো আশ্বাস পাওয়া যায়নি।

তাদের দাবি, এলাকার মানুষের দুর্ভোগের কথা চিন্তা করে যত দ্রুত সম্ভব এখানে একটি সেতু নির্মাণ করে দিলে এলাকার মানুষ নির্বিঘ্নে যাতায়াত করতে পারবেন।

-যুগান্তর

Related Posts



cheap mlb jerseyscheap nfl jerseyscheap mlb jerseyscheap nhl jerseyscheap jerseyscheap jerseyscheap jerseyscheap jerseyscheap jerseyscheap jerseys