Home উল্লেখযোগ্য রাস্তায় পড়ে থাকা ফাহিম ও একজন ব্যাংকার শামীম

রাস্তায় পড়ে থাকা ফাহিম ও একজন ব্যাংকার শামীম

ফাহাদ মারুফ: ২৫ বছরের এক যুবক, নাম তার ফাহিম। দীর্ঘদিন উত্তরা ৪ নং সেক্টরের একটি রাস্তা ই ছিলো তার ঘর বাড়ি। রাস্তায় তার জীবন।

কিছুদিন আগে ফাহিমের এই জীবন যাপনের করুন এই চিত্র চোখে পড়ে ফেসবুকে ব্যাংকার শামীম আহমেদের। দীর্ঘ ৫ বছরেনেএকোনার হাসান ছাড়া আর কোনো পুরুষ রোগীকে হেল্প করতে পারে নি (Helping Hands Bd) পরিবার।

তাই প্লান করা হয় কিভাবে এই যুবককে হেল্প করা যায়। কিছু দিন আগে ( শামীম) অাপন বড় ভাই মারা যাওয়াতে মন মানসিকতা ভালো ছিলো না বিধায় বিষয়টি নিয়ে তেমন চিন্তা করতে পারছিলেন না। একদিন আদাবর থেকে মতিঝিলে অফিসে যাওয়ার পথে আমার (শামীম) এক ফেসবুক বন্ধু মারজানা নামে  ফোন করে ফাহিমকে হেল্প করার জন্য অনুরোধ করেন।

ওনার মাধ্যমেই ফোনে যোগাযোগ হয় অাবিদ শাহারিয়ার পুলকের সাথে।যোগাযোগ হয় ফাহিমের স্কুলের কথিত এক বড় ভাই উত্তরা ৪ নং সেক্টরের শাহিনের সাথে।

বেশ কয়েকদিন প্লান করে গত ০৮/১১/২০১৯ইং তারিখ বিকাল ৫ টায় ফাহিমের খোঁজে অামি চলে যায় উত্তরা ৪ নং সেক্টরে।উত্তরা একটি রাস্তায় হঠাৎ চোখে পরে এক যুবককে।ময়লা কাপড়,পিঠে ভাংগা একটা ছাতা।যদিও নাই কোনো বৃষ্টি বা রৌদ্দ।একা একা কার সাথে যেনো কথা বলছিলো।হাতের ও পায়ের নখগুলো ছিলো বিশাল বড় বড়।ছেলেটির সামনে যাই,কথা বলার চেষ্টা করি।কিছুটা বন্ধুত্ব করার চেষ্টা করি।যদিও কিছুটা ভয় ভয় কাজ করছিলো।কারন সে মাঝে মধ্যে উত্তেজিত হয়ে যাচ্ছিলো।সেই সময় অামার সাথে ছিলেন অফিস কলিগ ও বন্ধু শফিক।পরবর্তিতে অামাদের সাথে যোগ দেন অামার বন্ধু লেলিন,ফেসবুক বন্ধু পুলক,গাজী ইলিয়াস ভাই ও ফাহিমের কথিত স্কুলের বড় ভাই উত্তরার শাহিন। ফাহিমকে এম্বুলেন্সে করে শ্যামলীতে অবস্হিত জাতীয় মানসিক হাসপাতালে অানার চেষ্টা করি।তবে ফাহিম অামাদের সাথে কোনো ভাবেই অাসতে রাজী হচ্ছিলনা।এক পর্যায়ে ৯৯৯ নাম্বারে ফোন করি এবং পুলিশের সাহায্য নেয়ার চেষ্টা করি। যদিও পরবর্তিতে পুলিশের সাহায্যের প্রয়োজন হয়নি।এরই মাঝে ফাহিমের মা ও চাচার সাথে ফোনে যোগাযোগ করি এবং ফাহিমের অাপন চাচাকে উত্তরা ৪ নং সেক্টরে অাসার জন্য ফোনে বেশ চাপ প্রয়োগ করি।এরই মাঝে ফোনে ফোনে একটা প্রাইভেট এম্বুলেন্স ঠিক করি।ফাহিমের চাচা অাসার পর সেই এম্বুলেন্সে করেই ফাহিমকে অামি,শফিক, লেলিন ও তার চাচা মিলে অানুমানিক রাত ৮ টায় শ্যামলী জাতীয় মানসিক হাসপাতালে নিয়ে যায়।সেই দিন রাতেই ফাহিমকে মানসিক হাসপাতালের ইমাজেন্সিতে ভর্তি করানো হয়।অাগে থেকেই মানসিক হাসপাতালে রেডি করে রাখা হয়েছিলো ফাহিমের দেখবাল করার জন্য একজন পুরুষ সেবক।

 

পরের দিন অর্থাৎ ০৮/১১/২০১৮ ইং তারিখ শনিবার সকাল ৯ টায় ফাহিমের মা সাভার থেকে জাতীয় মানসিক হাসপাতালে অাসেন।অামিও চলে যাই মানসিক হাসপাতালে।সেই সাথে ফাহিমের চাচা,অামার বন্ধু শফিক ও লেলিন হাসপাতালে অাসেন।দুপুর ১ টার দিকে ফাহিমকে জাতীয় মানসিক হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়।বর্তমানে ফাহিম জাতীয় মানসিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্হায় অাছে।তাকে সার্বক্ষনিক সেবা দেয়ার জন্য অাছেন একজন পুরুষ সেবক।

সর্বপরি একটা কথাই বলবো”বাবা ও মায়ের মাঝে সুসম্পর্ক না থাকার কারনে খেসারত দিচ্ছে ২৫ বছরের এই যুবক ফাহিম। মানসিক ভারসাম্যহীন অবস্হায় দীর্ঘদিন যাবৎ রাস্তায় রাস্তায় ঘুরে বেড়াচ্ছে।”

ফাহিমের জন্য অামাদের সবার দোয়া রইলো যেনো সে তাড়াতাড়ি সুস্হ্য হয়ে অাবার নিজ পরিবারে ফিরে যেতে পারে।অার কোনো ফাহিমকে যেনো রাস্তায় পরে থাকতে না হয়।

এবার আসি একজন সাদা মনের মানুষ সাদাসিধে মানুষ সরল মনের মানুষ উনার নাম নতুন করে বলার নেই, নতুন করে উনার পরিচয়ে দেওয়ার নেই। বাংলাদেশের টপ লেভেলের বেশ কিছু জাতীয় পত্রিকায় উনাকে নিয়ে নিউজ করা হয়েছে।

 

এমনকি ইত্যাদিতে ও ব্যাংকার শামীম ও তার বন্ধু আলী সাব্বির কে  নিয়ে একটি প্রতিবেদন করা হয়।

মানবিক গল্পের শুরুটা হয় ২০১৫ সালের ৬ মার্চ বান্দরবানের থানশি থেকে।  সেখানে রাস্তায় পরে থাকা একজন মহিলাকে দেখতে পেয়ে ব্যাংকার শামীম   উদ্যোগ নেন রাস্তায় পড়ে মানুষের জন্য কিছু করার।

বলা হয় কেউ যখন নতুন কোন উদ্যোগ নেয়, তখন হিমশিম খায় হতাশায় ভোগে, টিক তেমনি হতাশার মাঝে উনার বন্ধু আলী সাব্বির মানবতার দেওয়াল হয়ে ব্যাংকার শামীমের পাশে থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করে যান।

এর পর থেকেই শুরু হয় সফলতার গল্প শত বাধা শত কথা উপেক্ষা করে।

 

এক এক করে একজন নয়, মোট ১৪ জন রোগীকে সুস্থ করে সবার নিজ নিজ বাড়িতে পৌঁছে দিয়েছেন helping hands bd এর মানবিক সদস্যরা।