সিলেটকে বদলে দিতে ড. মোমেনের যে যে উদ্যোগ

by sylhetmedia.com

নিউজ ডেস্ক: সিলেটের যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে ব্যাপক কর্মযজ্ঞ হাতে নিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন। বদলে দিতে যাচ্ছেন সিলেটের সড়ক, আকাশ, রেল ও নদীপথ। ‘আগামীর সিলেট’ স্লোগানে তার দেখানো উন্নয়নযজ্ঞে ঠাঁই পেয়েছে এসব প্রকল্প।

প্রকল্পগুলো বাস্তবায়িত হলে সিলেটের যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে তৈরি হবে নতুন মাইলফলক। পর্যটন শিল্পের বিকাশের পাশাপাশি এগিয়ে যাবে এ অঞ্চলের শিল্পায়নও- এমনটা মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

জানা গেছে, জাতিসংঘের স্থায়ী প্রতিনিধির দায়িত্ব পালন শেষে দেশে ফেরার পর বড় ভাই আবুল মাল আবদুল মুহিতের পক্ষে সিলেটের উন্নয়ন দেখভালের দায়িত্ব পান ড. এ কে আবদুল মোমেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে মাঠে নামেন তিনি। সর্বাগ্রে গুরুত্ব দেন সিলেটের যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে। সিলেট-ঢাকা মহাসড়ক চারলেনে উন্নিতকরণের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রীর কাছে। মোমেনের পরিকল্পনার কথা শুনে প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা দেন সিলেট-ঢাকা মহাসড়ক ছয়লেনে উন্নিতকরণের। ড. মোমেনের চোখে সিলেটবাসীও দেখতে থাকেন ছয়লেনের স্বপ্ন। সেই স্বপ্ন এখন বাস্তবে রূপ নেওয়ার পথে।

জানা গেছে, পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব পাওয়ার পর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তিনি এই ছয়লেন মহাসড়ক প্রকল্পটি বাস্তবায়নের চেষ্টা করে যাচ্ছেন। তার চেষ্টায় ছয় লেনের মহাসড়ক প্রকল্পের জন্য এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক এডিবি অর্থায়নে সম্মত হয়েছে। মেগা এই প্রকল্পে ব্যয় হবে প্রায় ১৪ হাজার কোটি টাকা। কিছুদিনের মধ্যেই মহাসড়কের কাজের দরপত্র আহ্বান করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

সড়ক পথের মতো রেল যোগাযোগ ব্যবস্থায়ও আমূল পরিবর্তন আনতে চান ড. মোমেন। তার প্রচেষ্টায় সিলেট-আখাউড়া ২৩৯ কিলোমিটার রেলপথ ডুয়েলগেজে রূপান্তর হতে যাচ্ছে। ইতোমধ্যে একনেকে পাস হয়েছে এই প্রকল্প। প্রায় ১৬ হাজার কোটি টাকার এই প্রকল্পের মেয়াদ ধরা হয়েছে ২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত।

ড. মোমেন জানিয়েছেন, প্রকল্পটির কাজ শেষ হওয়ার পর সিলেট-ঢাকা ও সিলেট-চট্টগ্রাম রুটে ব্রডগেজ ট্রেন ঘন্টায় ১২০ কিলোমিটার গতিতে চলতে পারবে। এতে ঢাকা ও চট্টগ্রাম ভ্রমনের সময় প্রায় অর্ধেক কমে আসবে।

জানা গেছে, রেললাইনে পরিবর্তন আনার পাশাপাশি সিলেট রুটে চলাচলকারী ট্রেনগুলোকেও যাত্রীবান্ধব করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন। তার ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় ইতোমধ্যে সিলেট-চট্টগ্রাম রুটে চলাচলকারী উদয়ন ও পাহাড়িকা এক্সপ্রেস ট্রেনে যুক্ত হয়েছে নতুন বগি। ৩৪ বছরের পুরনো জরাজীর্ণ বগির বদলে দুই ট্রেনে লেগেছে ২৭টি লাল সবুজের নতুন বগি। বছরের শুরুতে এটাকে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দেওয়া বড় উপহার হিসেবেই দেখছেন সিলেটবাসী। শুধু বগি নয়, সিলেট রুটে চলাচলকারী ট্রেনের পুরনো ইঞ্জিন পাল্টে নতুন ইঞ্জিন সংযোগেরও চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি। শিগগিরই ইঞ্জিনগুলো বদল হবে বলে জানিয়েছেন রেল সংশ্লিষ্টরা।

আকাশপথে সিলেটের যাত্রীদের সেবার মান বৃদ্ধিতেও মেগা প্রকল্প হাতে নিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন। এতোদিন কাগজে কলমে আন্তর্জাতিক তকমা ব্যবহার করা ওসমানী বিমানবন্দর এবার পূর্ণাঙ্গ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের রূপ পেতে যাচ্ছে। বিমানবন্দরে চলছে প্রায় তিন হাজার কোটি টাকার উন্নয়নযজ্ঞ। এই প্রকল্পের আওতায় বিমানবন্দরের রানওয়ে সম্প্রসারণ ও শক্তিবৃদ্ধিকরণ, নতুন টার্মিনাল ও কার্গো ভবন নির্মাণের কাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে। সিলেট থেকে মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপ ও আমেরিকার বিভিন্ন দেশে সরাসরি ফ্লাইট চালু করতে ওসমানী বিমানবন্দরে যুক্ত হচ্ছে আরও চারটি বোডিং ব্রিজ।

ইতোমধ্যে ড. মোমেনের উদ্যোগে বিমানবন্দরে যাত্রীদের জন্য ফ্রি ওয়াইফাইও চালু করা হয়েছে। যাত্রীসেবা নিশ্চিত করতে পুরো বিমানবন্দরকে আনা হয়েছে সিসি ক্যামেরার আওতায়।

সড়ক, রেল ও আকাশপথের মতো নৌ যোগাযোগ নিয়েও ভাবছেন মোমেন। সড়ক পথে যানবাহনের চাপ কমাতে পণ্য পরিবহনে তিনি নদীপথকে গুরুত্ব দিতে চান। এজন্য সিলেটের নদীগুলো খনন করার প্রয়োজনীয়তার উপর জোর দিচ্ছেন তিনি। কয়েক দিন আগে নিজের এক বছরের উন্নয়ন নিয়ে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময়র সময় তিনি নদী পথের উন্নয়ন নিয়েও জানিয়েছেন তার পরিকল্পনার কথা।

Related Posts