সিলেটে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ফরিদ উদ্দিনের যত সফলতা

by sylhetmedia.com

ফারহানা বেগম হেনা: সিলেটের জনপ্রিয় পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ফরিদ উদ্দীন আহমদ একটি সাহসী ও মেহনতি সম্মুখযোদ্ধা সৈনিকের নাম। যিনি সিলেটে পুলিশকে নিয়ে সৃস্টি করছেন ইতিহাসের নতুন অধ্যায়। আশার প্রদীপ জ্বেলে দিয়েছেন জনতার মনে। ভালোবাসায় কেড়ে নিয়েছেন সিলেটবাসীর মন। যার আন্তরিকতা, দক্ষ ও সাহসিকতায় উজ্জল হচ্ছে পুলিশ বাহিনীর ভাবমূর্তি। যা অতিতে ছিল না। পুলিশ সুপার মুহাম্মদ ফরিদ উদ্দিন, আস্থা ও ভরসার এক বাতিঘর । আমজনতার মধ্যে এক সমীহের নাম যেন তিনি। কথায় কাজে অমিল খোঁজে পায়নি কেউ। কাজের বলিষ্টতায় মানুষের মধ্যে আজীবন স্মরনীয় হয়ে থাকবেন তিনি, তৃপ্তির গর্বিত আ্ওয়াজ তাকে নিয়ে অনেকের মাঝে। সেবার এক অনন্য অইকন হয়ে দাড়িয়েছেন তিনি।

একজন নেতা যেমন কর্মীদের অনুপ্রেরণা দিয়ে নেতৃত্ব প্রদান করে সংগঠনকে এগিয়ে নিয়ে যান, একজন কোচ যেভাবে কনফিডেন্স লেভেল তৈরি করে শিষ্যের কাছ থেকে সেরাটুকু বের করে নিয়ে আনেন একইভাবে তিনি জুনিয়র অফিসারদের কনফিডেন্স লেভেল তৈরি করে কাজ করিয়ে নেন। তেমনি এক সুপারকপ সিলেটের পুলিশ সুপার (এসপি), মোহাম্মদ ফরিদ উদ্দিন পিপিএম ৷

পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ফরিদ উদ্দিন এর সিলেটে যোগদানের একবছরের কিছু আলোকিত কর্মজীবন নিয়ে কিছু কথাঃ

পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ফরিদ উদ্দিন। সিলেট জেলার সর্বজনের কাছে এক জননন্দিত নাম। ২০১৯ সালের ২৪ জুন তিনি সিলেট জেলার পুলিশ সুপারের দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। দায়িত্বভার গ্রহণের পর অল্প কিছুদিনের মধ্যেই পুলিশ বিভাগেও সিলেটের জনগণের নিকট তিনি ঘনিষ্ট হয়ে যান তার কাজের মাধ্যমে। সহজ সরল নিরীহ জনগণের পুলিশি সেবা প্রাপ্তির সহজলভ্যতা এখন অত্র জেলার মানুষের মুখে মুখে। তাঁর অসাম্য কর্মপ্রচেষ্টায় দেশ ও জাতির কাছে দৃশ্যমান। অন্যদিকে অপরাধীরা এই সৎ পুলিশ অফিসারের নাম শুনলেই ভয়ে আতকে উঠে। বিভাগীয় কার্যক্রমের বিত্তের বাইরেও রয়েছে তাঁর নানাবিধ সামাজিক কর্মদ্যোগ। স্বভাবজাত সৎ, ভালো চরিত্রগুণের অধিকারী মোহাম্মদ ফরিদ উদ্দিন আহমদ পিপিএম এর বণার্ঢ্য ও কর্মজীবন সুধীজনের দৃষ্টিগ্রাহ্য করার প্রয়াসে আমার এ লিখা।

পড়াশোনায় অসামান্য মেধার অধিকারী এসপি মোহাম্মদ ফরিদ উদ্দিন আহমদ পিপিএম। একাডেমিক শিক্ষা শেষ করে প্রথমেই আইএফআইসি ব্যাংকের প্রবিশনারী কর্মকর্তা হিসেবে যোগদান করেন ২০০৪ সালে। আইএফআইসি ব্যাংকে চাকুরীকালীন সময়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের সহকারী পরিচালক পদে চুড়ান্তভাবে নিয়োগের জন্য মনোনীত হন এবং একই সময়ে আরও দুটি বেসরকারি ব্যাংকের অফিসার পদে চাকুরির সুপারিশ প্রাপ্ত হয়েছিলেন। এদিকে আইএফআইসি ব্যাংকে চাকরির পাশাপাশি পাবলিক সার্ভিস কমিশনের (পিএসসি) অধীনে বাংলাদেশে সিভিল সার্ভিস (বিসিএস) পরীক্ষায় বিভিন্ন ধাপে অংশ গ্রহণ করে যাচ্ছিলেন। বিসিএস পরীক্ষায় কৃতিত্তের সাথে উত্তীর্ণ হলে ২০০৫ সালে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার তাঁকে বাংলাদেশ পুলিশ সার্ভিসে সহকারী পুলিশ সুপার পদে চাকুরির জন্য মনোনীত করেন। ব্যাংকের চাকুরীতে ইস্তফা দিয়ে তিনি ২০০৫ সালের ২ রা জুলাই দেশসেবার ব্রত নিয়ে পুলিশের চাকুরীতে যোগদান করেন।

২০১৯ সালের ২৪ শে জুন সরকারি আদেশে সিলেট জেলার পুলিশ সুপার পদে নিযুক্ত হন এবং অদ্যাবধী এই পদে সুনামের সাথে বহাল থেকে যথেষ্ট সুনাম ও দক্ষতার সাথে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন।

এসপি মোহাম্মদ ফরিদ উদ্দিন আহমদ পিপিএম যোগদানের পর থেকেই সিলেট জেলার আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিরলসভাবে কাজ করছেন তরুণ এই অফিসার। বিশেষ করে থানা গুলোতে নাগরিকদের আইনী সেবা দিতে তিনি অফিসার ইনচার্জদের প্রতি কড়া নির্দেশ দেন।

জেলা পুলিশ সুপার হিসেবে যোগদানের পরপরই সিলেটের ৫ থানার ওসিকে বদলি করেন এবং থানায় যাতে সেবাপ্রার্থীরা হয়রানীর স্বীকার না হয় সেবিষয়ে নবাগত ওসিদের প্রতি কঠোর হুশিয়ারী দিয়েছিলেন ডিএমপি ওয়ারীর সাবেক ডিসি মোহাম্মদ ফরিদ উদ্দিন। সিলেটের শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে তিনি বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণের পাশাপাশি অপরাধীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেন।

জনবান্ধব পুলিশিংয়ের মাধ্যমে এলাকার সকল শ্রেনী পেশার মানুষের সাথে মতবিনিময় সভা সমাবেশ করে জঙ্গি ও গুজব বিষয়ে মানুষকে সচেতন করতে কাজ করে যাচ্ছেন তিনি। মাদক, সন্ত্রাস, ডাকাত সহ অপরাধীদের বিরুদ্ধে চিরুনী অভিযান পরিচালনা করে অপরাধীদের গ্রেফতার করা হচ্ছে।

জেলা পুলিশের শীর্ষ এই অফিসারের কঠোর নির্দেশে জেলার বিভিন্ন এলাকায় মাদক ব্যাবসায়ী ও অপরাধীদের বিরুদ্ধে সাড়াশি অভিযান পরিচালনা অব্যাহত রয়েছে। এসপি ফরিদ উদ্দিনের এমন পদক্ষেপের কারনে অপরাধ প্রবনতা অনেকাংশেই কমে এসেছে উল্লেখ করে জেলার বিভিন্ন এলাকার সাধারণ মানুষ সন্তোষ প্রকাশ করে প্রায়শই বলেন পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ফরিদ উদ্দিন অপরাধীদের কাছে এক আতঙ্কের নাম। আগে যে মানুষ গুলো পুলিশ সর্ম্পকে বিরুপ মন্তব্য করতো তারাই আজ র্গব করে পুলিশের সর্ম্পকে প্রশংসা করতে দ্বিধাবোধ করে না।

পুলিশ নিয়ে অনেকের বিরূপ ধারণা থাকলেও সিলেটের পুলিশ সুপার (এসপি), কুমিল্লার সন্তান মোহাম্মদ ফরিদ উদ্দিন পিপিএম সে ধারণা সম্পূর্ণ বদলে দিয়েছেন। দুষ্টের দমন, শিষ্টের লালন নীতিতে কাজ করে তিনি সকলের কাছে প্রশংসিত হয়েছেন। সিলেটে পরিবর্তনের যে হাওয়া, কাজের যে গতিশীলতা, সফলতা সবকিছুর পেছনে ক্রেডিট এই মানুষটার। সিলেট জেলার পুলিশ সুপার হিসেবে যোগদানের পর চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায় কাগজে কলমে সমাপ্তি হওয়া ১৪৫৫টি মামলার জট। তিনি টিম ওয়ার্কের মাধ্যমে মামলাগুলোর বিশাল জট নিরসনে দ্রুত কার্যকরি পদক্ষেপ গ্রহন করেন। বিগতএক বছরে ১৪৫৫টি মামলার মধ্যে ৯০৫টি মামলার মুলতবি করতে সক্ষম হয়েছেন। ওয়ারেন্ট তামিলের ক্ষেত্রেও রয়েছে স্মরণকালের সেরা সফলতা।

সিলেটের ইতিহাসে তিনিই একমাত্র পুলিশ সুপার যার উদ্যোগে সিলেট জেলা পুলিশের মাধ্যমে মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান ২২৯ জন বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা প্রদান করেছেন। সিলেটের ডিআইজি, কমিশনার, এসপিসহ পুলিশের পদস্থ কর্মকর্তা ও জাতির সূর্য সন্তান বীর মুক্তিযোদ্ধাগন একই সাথে বসে দুপুরের খাবারের আয়োজনে বীর মুক্তিযোদ্ধাগনের অশ্রুসিক্ত ভালবাসায় প্রশংসিত হন এসপি মোহাম্মদ ফরিদ উদ্দিন।

এছাড়াও বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মানে বিভিন্ন ধরনের পোশাক প্রদানে তিনি ভীষণ প্রশংসা কুড়ান। মাত্র একশত টাকা খরচের মাধ্যমে পুলিশের কনস্টেবল পদে নিয়োগ দেয়ায় দেশব্যাপী আলোচনায় নিজের স্থান করেন তিনি। পুলিশে নিয়োগ ও রদবদলে নেই তার টাকার কোনো চাহিদা। তার সততা, কর্মদক্ষতা ও নিষ্টার ফল ভোগ করছেন সিলেটবাসী। তার নিয়োগের পর থেকে সিলেটের থানাগুলোতে জিডি ও অভিযোগে কোন টাকা লাগে না। পুলিশিং কোন ধরনের হয়রানি নেই বললেই চলে।

পুলিশ সুপার হিসেবে দায়িত্ব গ্রহনের পর কাজ ও কর্মে সিলেটবাসীকে চমকের পর চমক দেখান তিনি। পৃথকভাবে প্রতিটি থানা পরিদর্শন ও থানার আওতাধীন এলাকার সার্বিক দিক বিবেচনা করে তৈরি করেন প্রতিটি থানায় একেকটি টিম।

Related Posts