হবিগঞ্জে ডাক্তার-নার্সসহ ৬জনের বিরুদ্ধে মামলা

by sylhetmedia.com

নিউজ ডেস্ক: মা ও নবজাতকে হত্যার অভিযোগে হবিগঞ্জে ডাক্তার, নার্সসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলাটি দায়ের করেন সদর উপজেলার গোপায়া ইউনিয়নের যাত্রাবড়বাড়ি গ্রামের মৃত নূর হোসেনের ছেলে মুমিন মিয়া। মামলায় আসামি করা হয়েছে বেসরকারি চাঁদের হাসি হাসপাতালের ডা. হালিমা নাজনীন মিলি, ডা. আশিক আহমেদ, ল্যাব ইনচার্জ আনোয়ার হোসেন ও নার্স মমতাজ আক্তার রিনাসহ আরও দুইজনকে।

মামলার বিবরণে উল্লেখ করা হয়, প্রতিবেশী মৃত সৈয়দ আলীর ছেলে মোহন মিয়ার সঙ্গে এক বছর আগে বাদীর বোন নিহত নাজু আক্তারকে (২০) বিয়ে দেয়া হয়। বিয়ের পর তার স্বামী ও ভাসুর তার ওপর নির্যাতন শুরু করে। দাম্পত্য জীবনে নাজু আক্তার গর্ভবতী হয়ে পড়ে।

মামলায় দাবি করা হয়, পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তার গর্ভে ছেলে সন্তান রয়েছে বলে রিপোর্ট আসে। গত ৩১ জানুয়ারি সকালে চাঁদের হাসি ক্লিনিকে নাজুকে ভর্তি করা হয়। পুনরায় পরীক্ষা নিরীক্ষা করে ডাক্তার বলেন তার সিজার করাতে হবে। বাচ্চার অবস্থা ভাল নয়। যে কোনো সময় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

মামলায় বলা হয়, ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী সিজার করাতে টাকাও ক্যাশে জমা দেয়া হয়। ওই দিন রাতে নাজুকে উল্লেখিতরা সিজারের নামে অপচিকিৎসা চালান। এক পর্যায়ে নবজাতককে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে লাশ গুমের চেষ্টা চালানো হয়। শুধু তাই নয়, নাজুর জরায়ু কেটে ফেলেন তারা। অতিরিক্তি রক্তক্ষরণের ফলে তার অবস্থার অবনতি হলে তাকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন। ওইদিন রাত ১টার দিকে নাজুকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। পরদিন ১ ফেব্রুয়ারি সকালে নাজু মারা যান। সিলেটের ডাক্তার বলেন, জরায়ু কেটে ফেলায় অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের ফলে নাজুর মৃত্যু হয়েছে। বাদীর বিষয়টি সন্দেহ হলে সিলেট কতোয়ালী থানাকে অবহিত করেন। এসআই মো. দেলোয়ার হোসেন, কনস্টেবল তান্নী বেগমসহ একদল পুলিশ এসে লাশের সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি করে ময়নাতদন্ত শেষে লাশ হস্তান্তর করে।

পরে তারা জানতে পারেন আসামি জামাল ও নিহত নাজুর স্বামী মোহন মিয়া পূর্ব পরিকল্পিতভাবে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে চাঁদের হাসি হাসপাতালের ডাক্তারকে দিয়ে তার বোনকে ও নবজাতককে হত্যা করে লাশ গুমের চেষ্টা করেছেন।এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার এ মামলাটি দায়ের করেছেন মুমিন মিয়া। বিচারক মামলাটি আমলে নিয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়ার জন্য হবিগঞ্জের পুলিশ সুপারকে নির্দেশ দেন।

এ ব্যাপারে চাঁদের হাসি হাসপাতালের পরিচালক মো. নাসির উদ্দিন বলেন, তাদের হাসপাতালের বিরুদ্ধে অভিযোগটি সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যেপ্রণোদিত। এরকম কোনো ঘটনা ঘটেনি। যারা ঘটিয়েছে তাদের বিরুদ্ধে তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা নেয়ার জন্য তিনি বলেন।

তিনি বলেন, তারা যে রোগীটি নিয়ে এসেছিলেন ওই রোগীকে অন্যত্র চিকিৎসা করিয়ে তার অবস্থা একেবারেই আশঙ্কাজনক ছিল। তাদের অনেক অনুরোধের কারণে আমরা লিখিত নিয়ে ভর্তি করি। এমনকি বিনামূল্যে আমাদের হাসপাতালের এক স্টাফ ওই রোগীকে রক্তদান করেন। আমাদের এখানে কোনো প্রকার ভুল চিকিৎসা করা হয়নি। আমরা শতভাগ সঠিক চিকিৎসা দিয়েছি।

Related Posts